ভাইরাস কখনই এই মাস্ক দিয়ে ঠেকানোর সম্ভব নয়-বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী

March 25, 2020 6:58 pm

নিউজ ডেক্সঃ

সমস্ত বিশ্বই এখন প্রায় করোনার দখলে। এদিকে এই করোনা আশঙ্কায় মাস্ক ব্যবহারের পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া আর বহু লোকের মৃত্যুর ঘটনায় এই ভাইরাসের আশঙ্কা সবার মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। আর এতেই মাস্কের ব্যবহার ক্রমশই বেড়েছে। কিন্তু মাস্কের ব্যবহার আমাদের ভালোর চেয়ে যে ক্ষতি বেশি করছে তা কী জানেন? এমন প্রশ্নের উত্তর উঠে এসেছে ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে।

রাস্তাঘাটে বের হলে বেশির ভাগ মানুষের মুখে যেসব মাস্ক দেখা যাচ্ছে, তার তালিকায় রয়েছে- এন-৯৫ মাস্ক, তিন স্তর বিশিষ্ট ডিসপোজাল সার্জিক্যাল মাস্ক, গেঞ্জি কাপড় ও স্পঞ্জের মাস্ক, কাপড়ের তৈরি মাস্ক। ওড়না বা রুমাল বেঁধে মাস্কের মতো ব্যবহার।

সোজা কথায় বললে, কোনও কাজের কাজ হবে না এতে। জানাচ্ছেন, মেডিসিন ও সংক্রামক অসুখের বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী। তার সঙ্গে সহমত বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ সুমিত সেনগুপ্তও। ভায়ারোলজিস্ট সুশ্রুত বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত। তাদের মতে, এই ধরনের ভাইরাস কখনওই মাস্ক দিয়ে ঠেকানোর নয়।

কারা কারা পরবেন, আর কারা পরবেন না, সে বিষয়ে স্পষ্ট জানালেন মেডিসিন ও সংক্রামক অসুখের বিশেষজ্ঞ অমিতাভ নন্দী। এন-৯৫ মাস্ক একমাত্র তখনই প্রয়োজন, যদি কেউ সরাসরি রোগীর কাছে থাকেন বা তাকে স্পর্শ করেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তা ব্যবহার করবেন, যারা রোগীর এক মিটারেরও কম দূরত্বে দীর্ঘক্ষণ থাকবেন।

সার্জিক্যাল বা অন্য ধরনের মাস্ক এক্ষেত্রে কোন কাজে দেয় না। তবে যাদের সর্দি-কাশি হচ্ছে, তারা এই সার্জিক্যাল মাস্ক পরুন। সেটা নিজের জন্য নয়, অন্যের শরীরে রোগ না ছড়ানোর সচেতনতা থেকে। অন্য কোন ধরনের মাস্ক আর কোন কাজে আসে না।

ধুলো থেকে বাঁচতে এসব সাধারণ মাস্ক কোন কাজে আসে না। এই সব মাস্ক ধুলোর ক্ষুদ্র কণাকে আটকাতে পারে না। আর ধুলোর সঙ্গে করোনার কোনও যোগ নেই। এটা বায়ুবাহিত রোগের তালিকাতেও পড়ে না। কেউ ধুলো এড়াতে মাস্ক পরতে চাইলে তারা সার্জিক্যাল মাস্ক পরুন।

এন-৯৫ মাস্কের মাধ্যমে ৯৫ শতাংশ ভাইরাস মরে। কিন্তু এই মাস্ক সব সময় পরে থাকা যায় না। একটানা ১০ মিনিট পরে থাকলেও নানা সমস্যা হয়। নাক-কানে চাপ পড়ে। কানে ব্যথা হয়। একটা সময়ের পর দমবন্ধ লাগে। তাই এই মাস্ক পরলে বার বার তা নামিয়ে রাখতে বাধ্য হন মানুষ। কখনও কখনও নাকে-মুখে হাত দিয়ে তা ঠিক করতে হয়। এতেই ক্ষতি বাড়ে।

আর কোন ধরনের মাস্ক এক্ষেত্রে খুব একটা কাজে লাগে না। তা ছাড়া যে কোন মাস্কই গরম লাগার পর খুলে ফেলছেন অনেকে। এতেও হাত লাগছে মাস্কে। মাস্ক পরার পর মাঝেমধ্যেই তা ঠিক করতে তাতে হাত দিচ্ছেন সবাই। এতে হাতের জীবাণু মাস্কে যাচ্ছে। মাস্কের উপরিভাগের জীবাণু মিশছে হাতে। ফলে কাজের কাজ তো হচ্ছেই না, উল্টে ক্ষতি বাড়ছে।

Please follow and like us: