করোনায় মধ্যবিত্তের পকেট ফাঁকা, চোখে মুখে হতাশার ছাপ

April 4, 2020 7:34 pm

অনলাইন ডেক্সঃ

সারা বিশ্ব আজ কাঁপছে করোনা নামক প্রাণঘাতী ভাইরাসে। বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর মিছিল। এ প্রজন্ম একসঙ্গে এতো মানুষের মৃত্যু আগে কখনো দেখেনি। সব সময় তাড়া করে বেড়াচ্ছে মৃত্যু।

সারা বিশ্ব আজ থমকে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে অর্থনীতির চাকা। শিল্প-কলকারখানার চাকা আর ঘুরছে না। করোনাভাইরাসের প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের মানুষকে করোনামুক্ত রাখার জন্য সরকার বেশ কিছু যুগোপযোগী সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছে।

সব ধরনের জনসমাগম বন্ধ রাখার জন্য গণপরিবহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মজীবী মানুষ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ঘর থেকে তারা কেউ বের হতে পারছে না। মূলত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বাংলার ১৭ কোটি মানুষ।

বেশি সমস্যায় পড়েছেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। করোনার প্রভাবে সবকিছু বন্ধ থাকায় সরকার, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্য-সামগ্রী বিতরণ করলেও পাচ্ছেন না মধ্যবিত্তরা। সরকারের উদ্দেশ্যে কোনো নিম্ন আয়ের মানুষ যেন না খেয়ে থাকে। না খেয়ে থাকছেনও না তারা। সবার দেওয়া সহযোগিতায় দিন কাটছে তাদের।

কিন্তু ভালো নেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো। লোকচক্ষুর ভয়ে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে কোথায় ত্রাণ আনতে যেতে পারছেন না। আত্মসম্মানবোধ তাদেরকে বাধা দেয়। ঘরের মধ্যে তারা না খেয়ে থাকলেও বের হচ্ছেন না। এক বুক কষ্ট আর ব্যথা নিয়েই জীবনের বাস্তবতা মোকাবেলা করছেন তারা।

বেসরকারি একটি কোম্পানির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ (ছদ্মনাম) তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, আজ কয়েক দিন হলো ঘরের মধ্যে বসে আছি। জমানো কিছু টাকা ছিল, তাই দিয়ে চললাম। টাকা শেষ হয়ে গেলে কীভাবে চলব তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না। কোনো কাজ কর্ম নেই। যে টাকা বেতন পাই তার বেশির ভাগই চলে যায় বাসা ভাড়ায়। চারদিকে ঘরে আটকে পড়া নিম্নবিত্তদের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে খাদ্য সামগ্রী আসছে। কিন্তু আমাদের খোঁজ কেউ রাখছে না। অথচ আমরাই আছি চরম বিপাকে। না পারছি কারো কাছে চাইতে, না পারছি দিন মজুরের কাজ করতে।

মহাখালী বাসটার্মিনালের ব্যবসায়ী সোলায়মান আলী বলেন, যানবাহন চলাচল করছে না তাই কেউ বাসের লেখালেখি স্টিকার লাগানোর কাজ করছে না। কিছু টাকা হাতে ছিল তা শেষ এখন পরিবার নিয়ে জীবন ধারন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। না পারছি সাহায্যের জন্য লাইনে দাঁড়াতে, না পারছি পরিবারের চাহিদা মেটাতে। সরকার তো শুধু নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য সাহায্য দিচ্ছে। মধ্যবিত্তের ব্যাপারে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই। তিনি বলেন, শুধু আমি নয়, আমার মতো আমার চেনাজানা অনেকেই আছে যাদের অবস্থা করুন। সারাদিন আমরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে এই নিয়েই আলোচনা করি। এভাবে চলতে থাকলে কি হবে জানিনা। মাস শেষ বাড়ীওয়ালা বাড়ী ভাড়ার জন্য চাপ দিবে। সব মিলিয়ে আমরা মধ্যবিত্তরা ভালো নেই।

আরেক এনজিও কর্মী রাসেল মাহমুদ (ছদ্মনাম) প্রচণ্ড হতাশা নিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে কিছুই জানি না। স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর আগামী দিনের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ করোনা নামক এক প্রাণঘাতী ভাইরাস ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। ঘরে যে খাদ্য ও অর্থ ছিল তা শেষ। এখন কীভাবে বেঁচে আছি তার কেউ খোঁজও নিচ্ছে না। সবাই শুধু নিম্নবিত্তদের দিকে নজর রাখছে। এই মুহূর্তে সরকারের উচিত আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া। আমরা না পারছি লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে না পারছি কোন কাজ করতে।

করোনা মোকাবিলায় সরকার যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছে। জনগণও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই এগিয়ে আসছে ত্রাণ নিয়ে। আমরা এক কঠিন সময় পার করছি। দীর্ঘ কর্মহীনতার ফলে অনেকের রুটি-রুজির ব্যবস্থা নেই। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সবাই ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে যায়। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কিন্তু সমাজের আরও অনেকেরই প্রয়োজন থাকতে পারে। নজর দিতে হবে তাদের দিকেও। তাদের দিকেও বাড়িয়ে দিতে হবে সাহায্যের হাত। উচ্চবিত্তরা হয়তো করোনা উদযাপন করতে পারবে। নিম্নবিত্তদের কাছেও হয়তো ত্রাণ পৌঁছে যাবে কোনো না কোনোভাবে। কিন্তু মধ্যবিত্তরাও করোনার দিনগুলোতে যাতে বেঁচে বর্তে থাকতে পারে সেদিকেও আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

Please follow and like us: