পবিত্র আল কুরআন থেকে প্রাপ্ত পবিত্র শবে বরাত তথা “লাইলাতুল মুবারাকাহ”

April 8, 2020 9:56 pm

ধর্মীয় ডেক্সঃ

যে বিষয় কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফে আলোচনা করা হয়েছে তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করা কখনোই মু’মিন বান্দার কাজ নয় । বরং তা পালন করা হচ্ছে মু’মিনগণের একটি গুণ।আর শবে বরাত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । নিচে এর গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা হল দয়া করে সম্পূর্ণ বিষয়টি পড়বেন এবং আমল করবেন কারন এটি এমন একটি রাত যাতে আল্লাহ পাক বান্দার সামনের একবছরে সকল বিষয়ের ফয়সালা করা হয় এবং অনেক বান্দাদের ক্ষমা করা হয় ,আর এটি দুয়া কবুলের একটি খাছ রজনী। নিচে দলীল ভিত্তিক আলোচনা করা হল:
.
শবে বরাত কি?

শবে বরাত হচ্ছে ইসলামের বিশেষ রাত্রিসমূহের মধ্যে একটি রাত্র। যা শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত্রিতে হয়ে থাকে। শবে বরাত-এর অর্থ হচ্ছে ‘মুক্তির রাত’ বা ‘নাজাতের রাত।’
.
‘শব’ ফার্সী শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে, রাত। আর বরাত আরবী শব্দ যা উর্দূ, ফার্সী, বাংলা ইত্যাদি সব ভাষাতেই ব্যবহার হয়ে থাকে। যার অর্থ ‘মুক্তি’ ও ‘নাজাত’ ইত্যাদি। কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ভাষা যেহেতু আরবী তাই ফার্সী ‘শব’ শব্দটি কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ না থাকাটাই স্বাভাবিক। স্মর্তব্য যে, কুরআন শরীফ-এর ভাষায় ‘শবে বরাতকে’ ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রজনী’ এবং হাদীছ শরীফ-এর ভাষায় শবে বরাতকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান’ বা শা’বানের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
.
শবে বরাত সম্পর্কে কুরআন শরীফ -এ বর্ণনা

শবে বরাত বিরোধীদের এরূপ জিহালতপূর্ণ বক্তব্যের জবাবে বলতে হয় যে, শবে বরাত শব্দ দু’টি যেরূপ কুরআন ও হাদীছ শরীফের কোথাও নেই তদ্রূপ নামায, রোযা, খোদা, ফেরেশতা, পীর ইত্যাদি শব্দ কুরআন ও হাদীছ শরীফের কোথাও নেই। এখন শবে বরাত বিরোধী লোকেরা কি নামায, রোযা ইত্যাদি শব্দ কুরআন ও হাদীছ শরীফে না থাকার কারনে ছেড়ে দিবে?

মূলত শবে বরাত, নামায, রোযা , খোদা , ফেরেশতা , পীর ইত্যাদি ফার্সী ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত। ফার্সী শব অর্থ রাত্রি এবং বরাত অর্থ ভাগ্য বা মুক্তি । সুতরাং শবে বরাত মানে হল ভাগ্য রজনী বা মুক্তির রাত ।
.
মূলতঃ শবে বরাত এবং এর ফযীলত কুরআন শরীফে আয়াত শরীফ এবং অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। কুরআন শরীফে শবে বরাতকে লাইলাতুম মুবারাকাহ বা বরকতময় রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর হাদীস শরীফে শবে বরাতকে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শা’বান মাসের মধ্য রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
.
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟْﻤُﺒِﻴﻦِ ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔٍ ﻣُّﺒَﺎﺭَﻛَﺔٍ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻨﺬِﺭِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻳُﻔْﺮَﻕُ ﻛُﻞُّ ﺃَﻣْﺮٍ ﺣَﻜِﻴﻢٍ ﺃَﻣْﺮًﺍ ﻣِّﻦْ ﻋِﻨﺪِﻧَﺎ ﺇِﻧَّﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﺮْﺳِﻠِﻴﻦَ
অর্থঃ ” শপথ প্রকাশ্য কিতাবের! নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী। আমারই নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সূরা দু’খানঃ ২-৫)

কাজেই শবে বরাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহর দয়া লাভ করে আমাদের ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করার জন্য প্রত্যেককেই লাইলাতুল বরাত পালন করা উচিৎ এবং বিশ্ব উম্মাহর শান্তি ও মুক্তি কামনা করা উচিত।

Please follow and like us: