সাড়া পেলো না রেলওয়ের পার্সেল এক্সপ্রেস সার্ভিস!

May 2, 2020 10:43 am

নিউজ ডেক্সঃ

চালু হওয়ার প্রথম দিনই মুখ থুবড়ে পড়েছে পার্সেল এক্সপ্রেস সার্ভিস। খুলনা থেকে প্রথম একটি ট্রেন ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও মালামালের অভাবে তা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে খুলনা স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

তারা জানিয়েছে, প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদিত শাকসবজি তো দূরের কথা ব্যবসায়িক মালামালা নিয়েও কেউ স্টেশনে আসেনি। ফলে ট্রিপটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে রেলওয়ে। আগামী রোববার থেকে হয়তো পরিচালিত হতে পারে এই ট্রেন।

করোনার এই সময় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে শুক্রবার (০১ মে) থেকে চালু হয়েছে রেলওয়ের বিশেষ সার্ভিস ‘পার্সেল এক্সপ্রেস’ ট্রেন। এই ট্রেনের মাধ্যমে প্রান্তিক চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্য মধ্যসত্ত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ঢাকায় বিক্রি করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন অন্যদিকে খাদ্য সংকটও কাটবে এমন উদ্দেশ্য থেকে বিশেষ এই লাগেজ ভ্যান চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কৃষকদের উৎপাদিত শাক সবজি, ধান চালসহ বিভিন্ন ফলমূল পরিবহন করার লক্ষে এই সার্ভিস চালু হলেও, চট্টগ্রাম থেকে প্রথম যে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়, তাতে কোনো কৃষি পণ্যই ছিল না বলে জানান চট্টগ্রাম স্টেশন ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী।

তিনি বলেন, নতুন করে কোনো পণ্যই আসেনি স্টেশনে। যা পাঠানো হয়েছে তার সবই লকডাউনের আগে আটকে পড়া মালামাল। মাত্র ৩৮ প্যাকেট মালামাল নিয়েই ট্রেনটি ঢাকায় গেছে। সেখানে বেশ কিছু রাবারের স্যান্ডেল, কিছু ফার্নিচার ছাড়া কিছুই ছিল না।

তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এই ট্রেন সম্পর্কে জানেই না। কোনো প্রচার প্রচারণা না থাকার কারণে ব্যবসায়ীরাও অবগত নন পার্সেল এক্সপ্রেস সম্পর্কে। ফলে ট্রেনটিতে ৫ টি ভ্যান থাকলেও মালামাল গেছে একটিতেই। প্রচারণা চালিয়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের এই ট্রেনের ব্যাপারে আগ্রহী করতে না পারলে উদ্দেশ্য তো সফল হবেই না উল্টো ট্রেন পরিচালন খরচই উঠবে না। এই সার্ভিসকে কার্যকরি করতে লাগেজ ভ্যানের ব্যাপারে ব্যবসায়ী, চাষি ও খামারিদের আগ্রহী করতে আরও বেশি প্রচারণার তাগিদ দেন তিনি।

অল্প সময়ে হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে, আরও পর্যালোচনার সুযোগ ছিল বলে মনে করছেন রেলের অনেক কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা না করে, কৃষকদের আরও ভালোভাবে অবগত না এমন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ হয়নি।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোফাজ্জেল হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমরা সেভাবে সময় পাইনি, তবে প্রচার প্রচারণার কোনো ঘাটতি রাখিনি। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের উদ্দেশ্য সফলভাবে বাস্তবায়ন করার। সচিব জানান, স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে সেখানকার চাষি ও ব্যবসায়ীদের রেলে পণ্য পরিবহনের ব্যাপারে অবগত করতে। প্রয়োজনে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সাথেও আলোচনা করা হবে। তবে ধীরে ধীরে পার্সেল এক্সপ্রেস কার্যকরি হবে বলে আশাবাদী তিনি।

রেলওয়ের পরিবহন ও মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এক একটি পণ্যবাহী ট্রেনে ভ্যান থাকে ১০/১২ টি। যেখানে মালামাল পরিবহন করা যায় ২৩০ থেকে ২৪০ টন। কিন্তু ব্যবসায়ী ও চাষিদের কোনো সাড়া পাওয়া না যাওয়ায়, তার সিকি ভাগ পণ্যও আসছে না। এমন চলতে থাকলে তেল খরচ ও কর্মচারী বেতনের টাকায় আয় হবে না এসব লাগেজ ট্রেন থেকে।

তারা বলেন, সড়কপথে ট্রাকে চাষি তার পণ্য সরাসরি মাঠ থেকে ঢাকার বাজারে নিতে পারেন। মাত্র দুই পর্যায়ে কাজ করলেই ঝামেলামুক্ত। কিন্তু রেলে পণ্যপরিবহনে চার স্তরের কাজ করতে হয় চাষিদের। প্রথমে মাঠ থেকে ট্রাকে পণ্য নিয়ে স্থানীয় স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকে আবার ট্রেনে মালামাল নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে আবার ট্রাকে করে বাজারে নিতে হবে। এতে কৃষকের কষ্ট বেশি হওয়ায় আগে থেকেই রেলে পণ্যপরিবহনে মানুষের আগ্রহ কম। যেহেতু লকডাউনের সময় ট্রাক পথেও মালামাল সরবরাহ চালু আছে। সুতরাং রেলপথে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মালামাল না পাওয়ার আশঙ্কা তাদের।

চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে প্রতিদিন সকাল দশটায় ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ৮:৩০ মিনিটে। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ- ঢাকা রু‌টের ট্রেন‌টি দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছাড়বে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় এবং ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ৩:১৫ ঘটিকায়। খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে খুলনা থেকে ছাড়বে বিকাল ৪:৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ৩:৩০ মিনিটে। খুলনা ঢাকা রুটের ট্রেনটি সপ্তা‌হের শুক্র, র‌বি ও মঙ্গলবার চলাচল করবে। অন্য দু‌টি রু‌টের ট্রেন সপ্তা‌হের ৭ দিনই চলাচল কর‌বে।

Please follow and like us: