চিল্লাইয়া যখন ঘরে রাখতে পারি নাই-তাহলে হোক না সব খোলামেলা

May 5, 2020 4:01 am

নিউজ ডেক্সঃ

কেউ লকডাউন মানছেন না। প্রতিনিয়ত এমন সংবাদ প্রচার হচ্ছে গণমাধ্যমে। কোন না কোন অজুহাতে আমরা বাইরে আসছি। পাড়া-মহল্লার দোকানে নিয়মের বালাই নেই। সরকার, স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সকলেই এতদিন বলেছেন ঘরে থাকুন। তবুও এসব চিৎকার হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। আমরা কেউ ঘরে থাকিনি। লকডাউনের জন্য কত গালি দিয়েছি প্রশাসনকে। বলেছি- সব বন্ধ করে দিলে না খেয়ে মরে যাবো। সরকার পর্যায়ক্রমে ত্রাণ দিয়ে আসছে। ত্রাণের লোভে একদল বিভিন্ন দাতাদের কাছে ছুঁটে বেড়িয়েছেন। এরা অনেকেই সব জায়গায় খেয়েছেন। আমরাই যখন বলছি আর কতক্ষন ঘরে থাকবো তখন আমরাই আবার সব খুলে দেয়ার বিরোধিতা করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে শুরু থেকেই স্বাস্থ্য নির্দেশ না মেনে চলার ব্যাপারে সচেতনতামূলক কাজ, সংবাদ পরিবেশন, ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে আসছিলাম। বেশ কিছুদিন আগে আমি বুঝলাম আমরা চিল্লাচ্ছি। কোন কাজ হচ্ছে না। সরকার চিল্লাচ্ছে, কোন কাজ হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন চিল্লাচ্ছে। কোন কাজ হচ্ছে না। ডাক্তার মরলেন, পুলিশ সাংবাদিক মরলেন, যারা নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে এভাবে আমাদের মত চিল্লাচ্ছেন, এই সেবাকারীরা চলে যাচ্ছেন পরপারে। তার জন্য অসচেতন মানুষগুলো এবং তাদের লোভ কি দায়ি নয়?

যদি মনে করেন আপনি সচেতন, আপনি লোভ- লালসার বাইরে। আপনি আইন মানেন, তবে সমস্যা কোথায়?

আমরাও বাইরে যাই। তবে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করি। আপনারা যারা আমাদের সাখে কথা বলতে আসেন, তারা গায়ের উপরে উঠে আসেন। তা না হলে আপনাদের ভাল লাগে না।
সবকিছুই আপনার আমার ভাল লাগার উপর নির্ভর করে। মালয়েশিয়া আজ লকডাউন তুলে নিয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশও তাই করেছে। আর সবকিছু হচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য। মানুষকে রক্ষার জন্য। তা না হলে দেশ ও দেশের মানুষ যে ক্ষতির মুখে পরবে তা আগামী বছরের পর বছর ধরে তার খেসারত দিতে হবে।

বাইরে যাব কি যাব না, তা একান্তই আমার সিদ্ধান্ত। মানুষের ভীরে যাব কি যাব না তা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমার দোকানে অধিক লোক এলে মুখে তাদের শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে বলবো কি বলবো না, তা আমার দোকানীর সিদ্ধান্ত।

আমার সচেতনতা আমার কাছে। কানাডায় সবই চলে। কিন্তু মানুষ প্রয়োজন ছাড়া যায় না। গাড়ি চলছে কিন্তু যাত্রী নেই। দোকানে একজনের বেশী লোক দাঁড়ায় না।

বাংলাদেশে সবই খুলে যাবে। কিন্তু আমি নিজেকে কতটুকু নিরাপদ রাখবো তার দায়িত্ব আমার কাছে।
সব খুলে গেলে দোষ, কিন্তু যারা আমরা আইন ভঙ্গ করি। মুখে মাস্ক ঝুলিয়ে ভীরের সৃষ্টি করি। কারখানায় স্বাস্থ্য আইন মানি না। নির্দেশ মত চলি না, তাদের কি কোন দোষ নেই?

সব খুলে যাক না। আমি নিজেকে সুরক্ষিত রাখলে, স্বাস্থ্য নির্দেশ মানলে আমারতো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
লকডাউনে আমরা সব চালিয়েছি। বাইরে বন্ধ আর ভেতরে খোলা রেখেছি। শুরুতেও সব চলছে, এখনও নয় সবই চলবে।

সিদ্ধান্ত আমার, আমি কি করবো।
চিল্লাইয়া যখন ঘরে রাখতে পারি নাই—- তাহলে হোক না সব খোলামেলা।

লেখকঃ
তোফায়েল হোসেন তোফা সানী
নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা,
প্রধান সম্পাদক সিএনআইনিউজ।

Please follow and like us: