একজন মানবিক পুলিশ এসআই মানিক, অর্পিত দায়িত্ব শেষে ঘরে না ফেরে ছুটে যান মানুষের কাছে

May 12, 2020 12:01 am

নিউজ ডেস্ক

দিন নেই, রাত নেই। সারাক্ষণই ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। মানুষের জন্য অকাতরে কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব শেষ করে ঘরে ফেরেন না, ছুটে যান মানুষের কাছে। কার কী সমস্যা, খুঁজে বের করেন। তারপর নিজের মতো করে দেন সমাধান। আর এজন্য ‘মানবিক’ পুলিশ হিসেবে ইতোমধ্যে সবার কাছে পেয়েছেন গ্রহণযোগ্যতা। ঢাকা মেট্রোপলিটনের কলাবাগান থানার এ পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. মনসুর হোসেন মানিক। বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনে সহ প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

করোনায় সারাদেশ যখন কার্যত লকডাউন, তখন তার দায়িত্ব যেনো বেড়ে গেছে। মানুষ যখন খাবারের জন্য রাস্তায় বেরিয়ে আসছে, তখন সাব ইন্সপেক্টর মানিক তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, কলাবাগান থানা থেকে প্রতিদিন বেশ কিছু মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনেক সময় দেখা যায়, যে পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী, তার চাইতেও বেশি মানুষ খাবারের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ হয়তো লজ্জায় মুখ ফুটে ক্ষুধার কথা জানাতে পারছেন না। এমন চিত্র দেখে থেমে থাকা যায় না। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের পাশে দাঁড়াই। নিজ পকেট থেকে হলেও তাদের জন্য খাবার ব্যবস্থা করি।

শুধু তা-ই নয়, করোনা আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা, লকডাউনে থাকা বাড়িতে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াসহ নানা মানবিক কাজে সবার আগে পাওয়া যায় মানিককে। পুলিশের পোশাকের বাইরে তিনি যেনো সবার কাছে হয়ে উঠেছেন পরমপ্রিয় কেউ।

করোনায় ঝুঁকি আছে জেনেও মানিক থেমে থাকেননি। তিনি বলেন, আমরা বড় বড় দুর্যোগ দেখেছি। কিন্তু এমন মহামারি দেখেনি। সারা বিশ্বকে থমকে দিয়েছে করোনাভাইরাস। থানার অন্যান্য পুলিশ অফিসার ও কনস্টেবলরা আমাদের সাথে দিনরাত সমানভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাদের অনেকেই পরিবার নিয়ে থাকেন। তাদের বলে দেওয়া হয়েছে ভাল করে পোষাক খুলে জীবনানাশক ছিটিয়ে নিজেকে জীবানুমুক্ত মুক্ত হয়ে বাড়িতে যাবেন। দুরত্ব বজায় রাখবেন। কোন সমস্যা দেখা দিলে আমাকে জানাবেন।’

মানিকের বাবা-মা তার গ্রামের বাড়িতে থাকেন। ঢাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকলেও পরিবারকে সময় দিতে পারেন না বললেই চলে। মানিক মনে করেন, বৈশ্বিক এ মহামারী একা কখনোই মোকাবেলা করা সম্ভব না। দেশের মানুষকে সচেতন আর সহযোগিতার মধ্য দিয়েই একদিন করোনামুক্ত হবে বাংলাদেশ। এজন্য নিজের কথা না ভেবে দেশের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে যেতে চান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, একজীবনে মানুষের ভালোবাসা অনেক পেয়েছি। আমিও মানুষকে ভালোবেসে সারাজীবন সেবা দিয়ে যেতে চাই।

Please follow and like us: