ডুমুরিয়ার আরশনগরে শিশু হত্যার ১ মাস পার হলেও মামলা রেকর্ড হয়নি : বাদীর পরিবারকে হুমকির অভিযোগ

May 13, 2020 7:54 pm

এসএম বাচ্চু,তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি:

ডুমুরিয়া উপজেলার আরশনগর গ্রামে শিশু সুমন হত্যার ১ মাস পার হলেও এখনও থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করছেনা। এই সুযোগে খুনিচক্র নিহত শিশুর পরিবারকে মামলা না করার জন্য টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যর্থ হয়ে এখন নানান হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল রাতে ডুমুরিয়া উপজেলার আরশনগর গ্রামের মো. সোহরাব শেখ’র ছেলে সুমন শেখ (১৬)কে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত ভাবে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে একই গ্রামের শাহিন শেখ ও তার পিতা মো. শাহজাহান শেখ সহ দূর্বৃত্তরা। সেসময়ে গুরুতর আহতাবস্থায় সুমনকে স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ৪ এপ্রিল তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এখান থেকে আশংকাজনক অবস্থায় সুমনকে ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকার ইস্টার্ন কেয়ার হসপিটাল লিমিটেড-এ ৪ দিন চিকিৎসাধিন থাকার পর ৮ এপ্রিল বিকালে সুমন মারা যায়। মৃত্যুর ঘটনার ১ মাস পার হলেও এখনও সুমনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম!

নিহত সুমনের মা হালিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশি শাহজাহান শেখ’র সাথে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এই ঘটনার জের ধরে গত ৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহজাহান’র ছেলে শাহিন শেখ পরিকল্পিত ভাবে এলাকার ৬ শিশুর মাধ্যমে সুমনকে পাশের বাগানে ডেকে নিয়ে যায়। পরে শাহিন ও তার পিতা শাহজাহান সহ দূর্বৃত্তরা শিশু সুমনকে পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এঘটনার পর পাশের লোকজন টের পেয়ে মূমূর্ষাবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে। পরে ৫দিন পর ঢাকায় চিকিৎসাধিন অবস্থায় সুমন মারা যায়।

সুমনের পিতা সোহরাব শেখ বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে শাহজাহান ও তার ছেলে শাহিন সহ ভাড়াটিয়া দূর্বৃত্তরা সুমনকে পিটিয়ে গলার হাড় ভেঙ্গে দেয়। এছাড়া মৃত্যু নিশ্চিত করতে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে। যেকারনে ঘটনার সময় থেকে জ্ঞানহীন থাকা সুমন ৫দিন পর মারা যায়। সুমনের মৃত্যুর পরপরই ঘাতক শাহজাহান ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। গত কিছুদিন আগে তারা বাড়ি ফিরে এখন মামলা না করার জন্য ২ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেয়। আমরা তাতে রাজি না হওয়ায় আমাদেরও খুন করবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

সোহরাব শেখ অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্দনে খুনি শাহীন ও তার পিতা বাড়িতে ফিরে এসে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। তাছাড়া আমরা এই ঘটনায় মামলা করার জন্য বারবার ডুমুরিয়া থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছেনা। বর্তমানে ছেলে হারানোর শোকে শোকাহত পরিবারটি হুমকির মুখে রয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শাহজাহান শেখ জানান, ঘটনার রাতে সুমন সহ তার আরো ৬ বন্ধু আমাদের বাগানের গাছ থেকে ডাব চুরি করে পাড়তে যায়। সেসময় আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদের ধাওয়া দিলে সুমন গাছ থেকে পড়ে যেয়ে আহত হয় এবং পরে মারা যায়। তাকে খুন করা হয়নি বলে দাবী করেন শাহজাহান শেখ। তবে, শাহজাহানের এই দাবী মিথ্যা এবং সুমনকে পেটানো হয় বলে অভিযোগ করেছে ঘটনার সময়ে সাথে থাকা সুমনের বন্ধু লাভলু শেখ। সে জানায়, তারা ৭ বন্ধু সেদিন শাহিনদের গাছ থেকে চুরি করে ডাব পাড়ে। এসময় শাহীন ও তার বাবা শাহজাহান টের পেয়ে তাদের ধাওয়া দিলে সকলে গাছ নেমে এসে পালিয়ে যায়। কিন্তু সুমন নারকেল গাছে সবার উপরে থাকায় তার নামতে দেরি হয়। যেকারনে সে শাহিনের হাতে ধরা পড়ে এবং কিছু পরে সুমনের কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। শাহিন ও তার পিতা শাহজাহান সহ তাদের লোকজন সুমনকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে এবং ঘাড় ভেঙ্গে দেয়ায় সুমন মারা যায় বলে লাভলু অভিযোগ করেন। এছাড়া গাছ থেকে পড়ে গেলে সুমনের মাথা সহ শরীরের অন্যান্য স্থানে ক্ষত চিহ্ন থাকতো। অথচ তার কোনও চিহ্ন নেই, এমনকি সুমনের কোমরে রাখা একটি স্মার্ট ফোন অক্ষত রয়ে যায়।

এবিষয়ে ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. আমিনুর ইসলাম বিপ্লব বলেন, মামলা রেকর্ড করা হচ্ছেনা- এটা ঠিকনা। ঘটনায় সেসময়ে থানায় একটি জিডি হয় এবং পুলিশের উদ্যোগে সুমনের মরদেহ ময়না তদন্ত করা হয়। ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার পর যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি খুন প্রমানিত হলে কোনও খুনিকে ছাড় দেয়া হবেনা।

Please follow and like us: