নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের সাবেক এসপি হারুন ফের ডিএমপিতে

May 16, 2020 6:35 pm

নিউজ ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের সাবেক এসপি, আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে ফের ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) বদলি করা হয়েছে।

গত বছরের ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ট্রিনিং রিজার্ভ (টিআর) হিসেবে বদলি করা হয়েছিল হারুনকে। বৃহস্পতিবার একজন ডিআইজিসহ মোট পাঁচ কর্মকর্তার যে বদলির আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছিল সেখানে হারুন অর রশীদেরও নাম রয়েছে। ডিএমপিতে তাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার। ঢাকা মহানগরে এখন উপ-কমিশনারের পদ রয়েছে ৫৭টি।

হারুন আগেও ঢাকা মহানগর পুলিশে ছিলেন। ডিএমপির অপরাধ বিভাগের লালবাগের উপ-কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও তেজগাঁও বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ঢাকা মহানগরে কাজ করার সময় বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের উপর হামলার ঘটনায় আলোচিত হন হারুন। এরপর কয়েক বছর গাজীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক।

২০১৮ সালের মে মাসে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় বিএনপি তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলে। এরপর ওই বছরের অগাস্টের শুরুতে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলি করা হয়।

একই বছরের ২ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে হারুন অর রশীদকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করে সরকার।

নারায়ণগঞ্জে ১১ মাসের দায়িত্বে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেন হারুন। হকার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে তিনি যেমন প্রশংসিত হন, তেমনি নারায়ণগঞ্জের অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে টক্করে গিয়ে নতুন নতুন আলোচনার জন্ম দেন।

এই প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কে এসপি হারুনের ছবিসহ ব্যানার দেখা যায়, যেখানে তাকে বলিউডি সিনেমার নায়কের সঙ্গে তুলনা করে বলা হয় ‘বাংলার সিংহাম’।

গেল বছরের নভেম্বরের শুরুতে এক ঘটনায় হঠাৎ করেই এসপি হারুনের বদলির আদেশ আসে। নারায়ণগঞ্জ থেকে সরিয়ে তাকে পাঠানো হয় পুলিশ সদর দপ্তরে।

গত ২ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি হারুন পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার এম এ হাশেমের ছেলে আমবার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজের স্ত্রী ও সন্তানকে আগের ভোররাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আটকের কথা জানান। তিনি দাবি করেছিলেন, তাদের গাড়ি থেকে ইয়াবা, মদ ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ আসে, চাঁদা না পেয়ে শওকত আজিজের স্ত্রী-সন্তানকে ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে ধরে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে গিয়েছিলেন এসপি হারুন।

ইন্টারনেটে এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ৩ নভেম্বর হারুনের বদলির আদেশ আসে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হবে বলেও ওই সময় জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

Please follow and like us: