ফতুল্লার কুতুবপুরে নির্মান সামগ্রী সাপ্লাই দিতে না পেরে মসজিদের কাজ বন্ধের হুমকি যুবলীগ নেতার!

May 18, 2020 1:28 pm

নিজস্ব সংবাদ দাতা –

নির্মাণ সামগ্রী দিতে না পেরে সদর উপজেলার একটি মসজিদের কাজ বন্ধ রাখার হুমকি ধামকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা এম ও এফ খোকনের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরের দিকে উপজেলার কুতুবপুর শাহীবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্মাণ কাজে নিয়োজিতরা জানান, এম ও এফ খোকন নামে এক ব্যক্তি এসে কাল থেকে কাজ বন্ধ রাখাতে হুমকি দিয়েছেন। সে হুমকি দিয়ে বলেছেন, কাল থেকে যদি এখানে কেউ কাজ করিস তবে, হাত-পা ভেঙে ফেলব।

সূত্র জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে রড সিমেন্ট ইট বালুসহ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা করেন খোকন। শাহী বাজারসহ আশপাশের এলাকায় নির্মাণ কাজ হলে তার থেকে এসব সামগ্রী নিতে বাধ্য করা হয় মানুষকে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে তিনি অগ্নিমূর্তি ধারণ করে থাকেন। এলাকায় তিনি নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এহেন কাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

সূত্র আরও জানায়, শাহী বাজার কবরস্থান ও মসজিদ কমিটির সভাপতি কুতুবপুর ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার আলাউদ্দিন হাওলাদার। কথিত রয়েছে, তিনি এবং মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি দুজন মিলেই মসজিদের নির্মাণসামগী সাপ্লাই দিচ্ছেন। এতে চটেছেন খোকন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি সেখানে গিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও নিজে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসার করেন না, এমন দাবি করে আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, খোকন বুঝতে পারেনি। না বুঝেই সে ওটা করেছে। বিষয়টা মিট হয়ে গেছে। আমি যেয়ে এ নিয়ে তার সাথে কথা বলে বিষয়টা শেষ করে দিয়েছি। এটা নিয়ে কিছু বইলেন না।

তিনি আরও বলেন, আমরা রড সিমেন্ট ইট বালু এসব মিল থেকে আনতেছি। এসব ব্যবসা আমরা করি না। দুই চারটা ট্যাকা যাতে কম লাগে সে জন্য এগুলা আমরাই মসজিদ কমিটি পক্ষ থেকে এনে থাকি।

অন্যদিকে এর সত্যতা জানতে এম ও এফ খোকনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি সেটি রিসিভ করেননি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো রকম বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, এম ও এফ খোনক দীর্ঘদিন ধরেই শাহী বাজার এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। তার নিজস্ব বাহিনীও রয়েছে। এমনকী মাদক ব্যবসায়ীদেরকে তিনি শেল্টার দিয়ে থাকেন বলেও শোনা যায়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিকবার অভিযোগ হলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। বলা হয়ে থাকে, কোনো এক অজানা রহস্যের কারণে পুলিশ তার টিকিটিও ছুঁতে পারে না।

Please follow and like us: