ঈদ বাড়িতে করতে গ্রামে ফিরছে শ্রমিকরা

May 20, 2020 2:06 am

নিউজ ডেস্ক

গাজীপুরের একটি সোয়েটার কারখানায় কাজ করেন বরিশালের মাহফুজ। ঈদ করতে গ্রামে যেতে এরই মধ্যে ৬ বন্ধু মিলে ভাড়া করেছেন একটি অ্যাম্বুলেন্স। ভাড়া ১৮ হাজার টাকা। ২৩ মে রাতে রওনা দেবেন। মাহফুজ বলেন, ‘গাড়ি চলে না। তাই অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করছি। ঢাকায় সব স্বাভাবিক, তাহলে গ্রামে গেলে সমস্যা কী। আমরা তো সুস্থই আছি।’ গাজীপুরের আরেক পোশাকশ্রমিক জাহিদুল ইসলামও গত রবিবার একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলায় পৌঁছেছেন। এজন্য তার ভাড়া গুনতে হয়েছে ৩ হাজার টাকা।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। এরপরও মাহফুজ, জাহিদুলদের মতো অনেকেই গ্রামে ছুটছে। যারা এখনো যেতে পারেনি তারা উপায় খুঁজছে। ঢাকার কাছে বাড়ি এমন অনেকে প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে গ্রামে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ঈদ বাড়িই করতে চায় তারা। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

কারখানামালিকরা বলছেন, প্রশাসন যদি সর্বোচ্চ সতর্ক না হয় তাহলে এসব শ্রমিককে আটকানো যাবে না। বিশেষ করে ঈদের ছুটি শুরু হলে ঘরমুখো শ্রমিকের ঢল নামতে পারে। এতে ঈদ-পরবর্তী সময়ে কারখানায়ও করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। হাইওয়ে পুলিশের দাবি, শ্রমিকসহ জনসাধারণের গ্রামে যাওয়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে তারা।

তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়দিনের খবরে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। প্রশাসনকে ততটা কঠোর অবস্থানে দেখা যায়নি। এজন্য হাজারো ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে ঘাটে ঘাটে, ফেরিতে ফেরিতে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের বাড়িতে না যাওয়ার জন্য বলছি। এজন্য ঈদে বাড়তি ছুটিও রাখিনি। এবার ঈদে শ্রমিকরা ৩ দিন ছুটি পাবে। এরপরও যদি কেউ যায় তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। দেখা গেছে, অনেকে পায়ে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছি, কেউ যাতে গ্রামে না যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে।’

বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ ও বিজেএমসির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা সিটি, আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় ৫ হাজারেরও বেশি কারখানা রয়েছে। এর বেশিরভাগই পোশাক শিল্পকেন্দ্রিক। এসব কারখানায় প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। করোনাভাইরাসের কারণে বেশকিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে। আবার কিছু শ্রমিক গ্রামে আটকা পড়েছে। বর্তমানে এসব এলাকায় প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে ৫-৭ লাখ স্থানীয় বাসিন্দা। বাকিদের বেশিরভাগই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের। ঢাকার আশপাশের এলাকা যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকার শ্রমিকের সংখ্যা ১০ লাখের মতো। এসব শ্রমিক ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ে হেঁটে বা মহাসড়ক এড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সড়ক হয়ে গ্রামে পৌঁছাতে পারে। ফলে গ্রামাঞ্চলও করোনা বিস্তারের ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৫ মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে। এ সময়ও দুই দফায় শ্রমিকদের বড় একটি অংশ পায়ে হেঁটে বা বিকল্প ব্যবস্থায় গ্রামে পৌঁছায়। গত ২৫ এপ্রিল থেকে শিল্পকারখানা সীমিত পরিসরে খোলার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে যেসব শ্রমিক গ্রামে অবস্থান করছে তাদের না আসার জন্য বলা হয়। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে লাখো শ্রমিক বিভিন্নভাবে গ্রাম থেকে কর্মস্থলে আসে। এদের অনেকেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়। তাই এবার ঈদেও এসব শ্রমিক দল বেঁধে গ্রামে পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার কোনো শ্রমিককেই গ্রামে পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মল্লিক ফখরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের গ্রামে যাওয়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বেশকিছু মানুষকে আটকানো হয়েছে। তাদের আবার পুশব্যাক করা হয়েছে। কেউ যাতে পায়ে হেঁটে না যেতে পারে সেজন্যও কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

Please follow and like us: