শাউয়াল মাস মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ন মাস

May 30, 2020 9:10 pm

ধর্মীয় ডেক্সঃ

শাউয়াল মাস মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ন মাস। এ মাসে ছয়টি রোজা পালনের নির্দেশ দিয়ে হযরত রাসূল (সঃ) বলেন,

قال النبي صلى الله عليه وسلم: من صام رمضان وصام ست شوال. صاموا لمدة عام كامل. (مسلم: 1174 ؛ أبو داود 2433 ؛ الترمذي ، نساي ، ابن ماجه ، صحيح الألباني).

রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: যারা রমাদানে রোজা পালন করবে এবং শাওয়ালে আরও ছয়টি রোজা রাখবে; তারা যেন পূর্ণ বছরই রোজা পালন করল। (মুসলিম: ১১৬৪; আবুদাউদ ২৪৩৩; তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, সহিহ-আলবানি)।

শাউয়াল মাসের ছয়টি রোজা হযরত রাসূল (সঃ) নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতে মোহাম্মদীকে পালনের নির্দেশ করেছেন। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস ৮২২)।

এই ছয়টি রোজা প্রথম শাওয়াল অর্থ্যাৎ ঈদুল ফিতরের দিনের পরের দিন থেকে যেকোন দিন পালন করা যায়। ছয়টি রোজা একটানা করা যায় বা ভেঙে ভেঙেও করা যায়। এটি হযরত রাসূল (সঃ) এর সুন্নত হলেও নফল রোজাও বলা হয়ে থাকে। হজরত উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ইয়া রসুলুল্লাহ, আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব?’ তখন রসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে। কাজেই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখ এবং রমজান-পরবর্তী শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখ, তাতেই সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি শরিফ, খণ্ড, ১ পৃ. ১৫৭)।

রমজানের কাজা রোজা পালনের জন্যও শাউয়াল মাসেই উত্তম সময়। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমার ওপর রমজানের যে কাজা রোজা বাকি থাকত; তা পরবর্তী শাবান ব্যতীত আমি আদায় করতে পারতাম না। (বুখারি: ১৯৫০; মুসলিম: ১১৪৬)। সময় সাপেক্ষে শাউয়ালের নফল রোজার আগে রমজানের কাজা রোজা পালন করা উত্তম। যদি সম্ভব না হয় কাজা রোজা পরেও রাখা যায়।

হযরত মোহাম্মদ (সঃ) আরও বলেছেন, আল্লাহ তাআলা শাওয়াল মাসের ছয় দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসে ছয় দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রত্যেক সৃষ্ট জীবের সংখ্যার সমান নেকি দেবেন, সমপরিমাণ গুনাহ মুছে দেবেন এবং পরকালে তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন।

আরও বিভীন্ন কারনে শাওয়াল মাসের গুরুত্ব রয়েছে। ‘শাওয়াল’ অর্থ উঁচু করা, উন্নত করণ, উন্নত ভূমি, পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারী হওয়া, গৌরব করা, বিজয়ী হওয়া, প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা ভিক্ষায় হস্ত প্রসারিত করা, পাত্রে অবশিষ্ট সামান্য পানি, ফুরফুরে ভাব, দায়ভারমুক্ত ব্যক্তি; ক্রোধ প্রশমন ও নীরবতা পালন, সিজন করা শুকনো কাঠ। এসব অর্থের প্রতিটির সঙ্গেই শাওয়ালের সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ মাসের আমলের দ্বারা উন্নতি লাভ হয়; পূর্ণতা ফল লাভ হয়; নেকির পাল্লা ভারী হয়; গৌরব অর্জন হয় ও সাফল্য আসে; ফলপ্রার্থী আল্লাহর কাছে হস্ত সম্প্রসারিত করে প্রার্থনা করে; পূর্ণ মাস রোজা পালনের পর আরও কয়েকটি রোজা রাখে; প্রাপ্তির আনন্দে বিভোর হয়; ফরজ রোজা পালন শেষে নফল রোজার প্রতি মনোনিবেশ করে; আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি অর্জন করে; পরিপক্বতা ও স্থিতি লাভ করে। এসবই হলো শাওয়াল মাসের নামের যথার্থতা।

হজরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, শাওয়াল মাসে বিয়ে-শাদি সুন্নত, যেরূপ শুক্রবারে ও জামে মসজিদে ও বড় মজলিশে আক্দ অনুষ্ঠিত হওয়া সুন্নত। কারণ, মা আয়েশার বিয়ে শাওয়াল মাসের শুক্রবারে মসজিদে নববিতেই হয়েছিল। ছয় রোজা শাওয়াল মাসের বিশেষ সুন্নত।’ (মুসলিম)

আরবি দশম মাস শাউয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদ-উল-) ফিতর, যা অত্যন্ত নিয়ামতের দিন। শাউয়াল মাস ফেতরা আদায়ের মাস। শাউয়াল মাসের ৭ তারিখেই ঐতিহাসিক ওহুদের যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। যে যুদ্ধের মাধ্যমে মু’মেন ও মোনাফেকের পরিচয়ও প্রকাশ পেয়েছিল। শাউয়াল মাসের আরেকটা গুরুত্বপূর্ন দিক হলো, এ মাসেই হজ্বের প্রস্তুতি শুরু হয়। পবিত্র হজ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে এ মাসেই মক্কা নগরীতে গমন করেন।

মহান মালিকের দয়া ভিক্ষা চাই, তিনি যেন আমাদেরকে শাউয়াল মাসের গুরুত্ব অনুধাবন করে ফরজ আমলের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ইবাদত ও গোলামীর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য হাসিল করতে পারি।

Please follow and like us: