ভারী বর্ষণে টাঙ্গাইলে কৃষকের ১১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে

June 3, 2020 10:59 am

নিউজ ডেক্সঃ

টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার ১১০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। পাকা ধান ঘরে তুলতে না পেরে চিন্তিত কৃষক।

জেলার বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলায় গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে বংশাই নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের আবাদী জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজারও কৃষক। কিছু জমির ধান পুরোটাই তলিয়ে গেছে। আবার কিছু জমির ধান সামান‌্য দেখা যাচ্ছে।

বাসাইল উপজেলার বাসুলিয়া, কাঞ্চনপুর, পূর্বপৌলী, মটেশ্বর, পূর্বমটেশ্বর, আগমটেম্বর, সিঙ্গারডাক, যৌতুকী ও মির্জাপুর উপজেলার পাটদিঘী, সুতানরী, বৈন্নাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাসাইল উপজেলার মটেশ্বর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় তিন একর জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছি। ফলনও এবার ভালো হয়েছিল। প্রায় এক একর জমির ধান কয়েকদিন আগে কেটেছি। কিন্তু দুইদিনের মধ্যে জমিতে পানি এসে আমার দুই একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিকের অভাবে ধানগুলো কাটতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করি। তিন একর জমিতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এবার সব শেষ হয়ে গেলো। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মতো কোনো উপায় নেই।’

একই এলাকার কৃষক মোমরেজ আলী বলেন, ‘আমার প্রায় চার একর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত দুই একর জমির ধান পানি থেকেই কেটেছি। তাদের টাকা বেশি দিতে হয়েছে। আবারও অনেক শ্রমিক পানিতে ধান কাটতে চাচ্ছে না।

কৃষক সোনা মিয়া বলেন, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে নদীর পানি বেড়ে বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখন ১১০০ টাকা করে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। প্রায় ৫ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। এ পর্যন্ত ৩ একর জমির ধান কেটেছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘জেলার বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ১১০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক ইতিমধ্যে ধান কেটে ফেলেছেন। আবার অনেকে পানির নিচ থেকেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন।’

তিনি জানান, এবার জেলায় এক লাখ ৬৯ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। জেলায় ইতিমধ্যেই ৭০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে।

Please follow and like us: