শ্রীমঙ্গলের ব্রোকার হাউজ দ্বারাই সম্পন্ন হয়েছে চলমান মৌসুমের প্রথম নিলাম

June 4, 2020 2:27 pm

নিউজ ডেক্সঃ

প্রথমবারের মতো শুধুমাত্র শ্রীমঙ্গলের ব্রোকার হাউজ দ্বারাই সম্পন্ন হয়েছে চলমান মৌসুমের প্রথম নিলাম। আর এ নিলামে ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৩০ জন বিডার অংশ নেন বলে জানান বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. রফিকুল হক।

তিনি জানান, ‘করোনায় কড়া সতর্কতায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এ নিলাম পরিচালিত হয়। অনান্য নিলামের চেয়ে এর পরিসর কিছুটা ছোট হলেও এটি শ্রীমঙ্গলের চা নিলাম কেন্দ্রের জন্য মাইফফলক। কারণ এই এটি পরিচালনা করে শ্রীমঙ্গলের দুটি ব্রোকার্স হাউজ। যা এ নিলাম হাউজ স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’

শ্রীমঙ্গল ব্রোকার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপরা পরিচালক মো. হেলাল আহমদ জানান, ‘করোনায় নিলামে চট্টগ্রাম থেকে অনান্য ব্রোকার হাউস আসেনি। তাই শ্রীমঙ্গলের দুটি ব্রোকার্স হাউজই তা পরিচালনা করে এবং ভায়ারদেরও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল। ব্রোকার্স হাউজের নিলামে উত্তোলিত চায়ের ৮০ ভাগই বিক্রি হয়েছে। সর্বোচ্চ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় শ্রীমঙ্গল ক্লোনেল বাগানের চা।’

শ্রীমঙ্গলস্থ টি ট্রেডার্স অ্যান্ড প্ল্যান্টারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের পরিচালক জহর তরফদার জানান, ‘শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্রে চলতি মৌসুমের প্রথম নিলাম সম্পন্ন হয়েছে বুধবার। এখন থেকে প্রতি মাসে দুটি করে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমদিনের নিলামে ১৮ হাজার ৭শ কেজি চা বিক্রি হয়েছে। গড় দর পাওয়া গেছে ২২০ টাকা।’

তিনি জানান, ‘শ্রীমঙ্গলের দুটি ব্রোকার্স হাউজের মধ্যে রুপসী বাংলা ব্রোকার হাউজের অফিস শ্রীমঙ্গল আজিজ সুপার মার্কেট ও শ্রীমঙ্গল টি ব্রোকার্স হাউজের অফিস শ্রীমঙ্গল রামকৃষ্ণ মিশন রোডে। দুটি প্রতিষ্ঠানের নিলাম ডাকে বিডার্সদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল।’

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চা উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে প্রতি নিলামে চা পাতা উত্তোলন ও বিক্রি বৃদ্ধি হওয়ার আশাবাদী চা সংশ্লিষ্টরা।

শ্রীমঙ্গল চা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি চেরাগ আলী জানান, ‘দেশের ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে শুধু মৌলভীবাজারেই রয়েছে ৯২টি। এ অঞ্চলের উৎপাদিত চা দু’বছর আগেও চট্রগ্রামের নিলাম কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রি করতে হতো। ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।’

টি ট্রেডার্স অ্যান্ড প্ল্যান্টারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের পরিচালক জহর তরফদার আরো জানান, ‘এ বছর চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ বেড়েছে। এই মৌসুমে প্রতি সোমবার চট্টগ্রামে চা নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মাসের প্রথম ও তৃতীয় সপ্তাহের বুধবার শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে চট্রগ্রামে মৌসুমের দুটি নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর চট্টগ্রামে ৪২টি ও শ্রীমঙ্গলে ২০টি চা নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।’

করোনায় বন্ধের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন বাগানে চা উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে পরিমিত বৃষ্টি ও আদ্রতা অনুকূলে থাকায় মৌলভীবাজারে চা উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা

Please follow and like us: