অবিশ্বাস্য সম্পদের মালিক রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল

June 23, 2020 8:16 pm

নিউজ ডেস্ক

নবম জাতীয় সংসদে রাজশাহী-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন এনামুল হক। ২০০৮ সালের ওই নির্বাচনের সময় কমিশনে তার জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে তার ঋণ ছিল ৩৭ কোটি ৭৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তবে তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ওই আসন থেকে নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ সময় জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি দাবি করেন, তার ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ঋণই নেই।

এর মাত্র পাঁচ বছর পর প্রকাশিত দেশের শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকায় পাওয়া গেল সেই এমপি এনামুলের নাম। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা তুলে ধরেন। এতে উঠে আসে রাজশাহী-৪ আসন থেকে তিনবারের নির্বাচিত এমপি এনামুল হকের প্রতিষ্ঠান ‘নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেড’-এর নাম।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী এনা প্রপার্টিজ লিমিটেড, এনা বিল্ডিং প্রোডাক্ট লিমিটেড, এনা এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড, সালেহা ইমারত এগ্রিকালচার লিমিটেড, সালেহা ইমারত কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, এনা এনার্জি লিমিটেড ও নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেডের পরিচালক রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হক। অবশ্য নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার এসব প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি তিনি। ওই সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তবে কোন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে কত টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, তা উল্লেখ করলেও তার কোন প্রতিষ্ঠানের নামে কত টাকা ঋণ নিয়েছিলেন সেসব বিস্তারিত তুলে ধরেননি এনামুল হক।

নবম জাতীয় সংসদের হলফনামা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালক হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ, সোস্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড থেকে ৭০ লাখ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড থেকে ১৬ কোটি, পিপলস লিজিং থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ, ব্যাংক আল-ফালাহ লিমিটেড থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ, ডিবিএইচ থেকে ২ কোটি, ফিনিক্স ফাইন্যান্স থেকে ১ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ৭ কোটি ৬০ লাখ এবং কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ঋণ নেন এনামুল হক। সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডে ব্যক্তিগত ঋণ ছিল ৯ লাখ ৫০ হাজার এবং আইডিএলসিতে যৌথ ঋণ ছিল তার ৫০ লাখ টাকা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় এনামুল হকের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগে ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কর ফাঁকির বিষয়টি দেখার দায়িত্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর), সেখানে কিছু করার নেই দাবি করে দুদক অব্যাহতি দেয় এনামুল হককে।

২০০৮ সালে এনামুল হক ও তার ওপর নির্ভরশীলদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। প্রায় পাঁচ বছরে ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৫ টাকা বেড়ে ২০১৪ সালে এনামুল হক ও তার ওপর নির্ভরশীলদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৯৫৫ টাকা।

এমপি এনামুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও। রাজনৈতিক পরিচয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আমলে রাজশাহীর সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি তিনি। এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১০ বছরে তার ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়াতে দৃশ্যমান কার্যক্রম অনেক। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমপি এনামুলের ‘এনা প্রপার্টিজ’ কাজও করছে অনেক। বেড়েছে বাড়ি-গাড়িসহ বেশকিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ২০১৮ সালের নির্বাচনে কমে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ টাকা। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনে ছিল কাঁটায় কাঁটায় অর্ধ কোটি টাকা। আবার ২০০৮ সালের নির্বাচনে ছিল ২০ লাখ টাকা। বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট বাড়লেও কৌশলে টাকার পরিমাণ দিয়ে তা উল্লেখ করা হয়। ২০০৮ সালে তার মোট কৃষিজমির মূল্য ছিল ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ২০১৪ সালে গিয়ে হয় ১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। সর্বশেষ নির্বাচনে কৃষিজমির মূল্যের পরিমাণও কম দেখিয়ে উল্লেখ করা হয় ১ কোটি ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৯ টাকা।

এমপি এনামুলের অবৈধ সম্পদ ২ হাজার ১২০ কোটি টাকার : দুর্নীতি দমন কমিশনের চিঠির জবাবে এমপি এনামুল হক ও তার স্ত্রী তহুরা হক সম্মিলিতভাবে মাত্র ৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এনামুল হকের মালিকানাধীন লিমিটেড কোম্পানি, প্রোপ্রাইটরশিপ ও পার্টনারশিপে থাকা ১৪ প্রতিষ্ঠানের তথ্য গোপন করা হয়েছে। এ ছাড়া এনা প্রপার্টিজ, সালেহা ইমারত কোল্ড স্টোরেজ, এনা-ডুঙ্গা লিজিং, নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেড, এনা ইন্টারন্যাশনাল, এনা কারস, এনা এনার্জি লিমিটেডসহ অন্য প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ার বা মালিকানার বিষয়টি সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করেননি। এনা প্রপার্টিজের কর্ণধার এমপি এনামুল হকের নামে ২ হাজার ১২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নির্বাচনী হলফনামার সম্পদের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে ওই পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপপরিচালক যতন কুমার রায়।

সূত্র জানান, অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮-০৯ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার নামে ১১টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়েছে সাতটির আয়; যা দুদক আইন পরিপন্থী।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, এনা প্রপার্টিজের নিজস্ব ভবনসহ ১৭টি আবাসন প্রকল্প আছে। যার বর্তমান মূল্য ২ হাজার ১২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ অর্থের বৈধ উৎসের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এনামুল হকের মালিকানাধীন এনা প্রপার্টিজে তার ও তার স্ত্রী তহুরা হকের আনুপাতিক শেয়ার ৪:১।

এনা প্রপার্টিজের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় জমা দেওয়া অডিট প্রতিবেদন ও ব্যাংক ঋণ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দাখিল করা অডিট প্রতিবেদন আলাদাভাবে তৈরি। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তিনি ৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা গোপন করেছেন; যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত।

একইসঙ্গে ২০১২-১৩ অর্থবছরে দাখিল করা আয়কর রিটার্নে তার দুই ছেলেকে সালেহা ইমারত কোল্ড স্টোরেজ থেকে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার প্রদান করা হয়েছে, তা আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনামুল হকের হলফনামায় বলা হয়, ২০০৮ সালে শুধু বেতন-ভাতা থেকে তার বছরে আয় ছিল ২০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর পরে এখন কৃষি, বাড়ি ও দোকান ভাড়া, ব্যবসা ও পেশা থেকে বছরে তার আয় হয় ৫০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর আগে তার পরিবারের পোষ্যদের ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা বার্ষিক আয় থাকলেও এবারের হলফনামায় পোষ্যদের কোনো আয়ের উৎস নেই উল্লেখ করা হয়। তার নিজের, স্ত্রীর ও অন্যদের মোট ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার সাধারণ শেয়ার থেকে কোনো আয় নেই উল্লেখ করা হয় হলফনামায়। পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রীর নামে থাকা ২ কোটি ৮৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকায়। নিজ নামে ব্যাংকে আছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৯১ টাকা ও স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা।

এমপি এনামুলের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ দ্বিগুণ : এনামুল হকের স্ত্রী তহুরা হকের সম্পদের পাহাড়। সম্পদ বেড়েছে এনামুল হকেরও। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনামুল হকের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে প্রথমবার এমপি হন এনামুল। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন দশম সংসদ নির্বাচনে। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি নৌকার প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন।

২০০৮ সালে এনামুল হকের বার্ষিক আয় ছিল ২০ লাখ টাকা। ২০১৩ সালে তা গিয়ে দাঁড়ায় ৫০ লাখে। আর ২০১৮ সালের হলফনামায় এনামুল হক বার্ষিক আয় ১ লাখ টাকা কমিয়ে দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ।

হলফনানায় এনামুল হক তার স্ত্রী তহুরা হকের নির্দিষ্ট কোনো আয় দেখাননি। তবু তহুরা হকের হাতে নগদে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬৯ টাকা আছে বলে উল্লেখ করেছেন। আর নিজের নামে নগদ টাকার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৮ দেখিয়েছেন তিনি।

২০০৮ সালে ৩ লাখ ৫৩ হাজার এবং ২০১৩ সালে ৫ লাখ টাকা নগদ দেখানো হয় তহুরা হকের নামে। অন্যদিকে নিজের নামে ২০০৮ সালে ৫৮ লাখ ১৯ হাজার এবং ২০১৩ সালে ১০ লাখ টাকা নগদ দেখান এনামুল হক। ২০১৮ সালে ব্যাংকে নিজের নামে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ১১৪ এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ২ হাজার ৩২৫ টাকা জমা দেখিয়েছেন। ২০১৩ সালে ৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা নিজের এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ স্ত্রীর নামে জমা দেখান। ২০০৮ সালে কেবল এনামুল হকের নামেই ব্যাংকে জমা ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। সেবার তার স্ত্রীর নামে কোনো টাকা জমা দেখানো হয়নি।

এর আগে স্ত্রীর নামে ২০০৮ সালে ২ কোটি ৮০ লাখ এবং ২০১৩ সালে ৮ কোটি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ দেখানো হয়। অন্যদিকে নিজের নামে ২০০৮ সালে ৯ কোটি ২০ লাখ এবং ২০১৩ সালে ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ দেখান এমপি এনামুল। গত নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় স্ত্রী তহুরা হকের মালিকানায় ৭ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার বিনিয়োগ দেখিয়েছেন এনামুল হক। যেখানে তার নিজের নামে শেয়ারে বিনিয়োগ এর প্রায় অর্ধেক ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০০৮ সালে দুই ছেলের নামে শেয়ারে বিনিয়োগ ছিল না। এরপর ২০১৩ ও ২০১৮ সালে নির্ভরশীলদের নামে শেয়ারে বিনিয়োগ দেখান ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

২০০৮ ও ২০১৩ সালে স্ত্রী তহুরা হকের নামে পোস্টাল, সেভিংস বা সঞ্চয়পত্রে কোনো বিনিয়োগ দেখাননি এনামুল। গত নির্বাচনের হলফনামায় এ খাতে স্ত্রীর নামে ৭৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৩ টাকা বিনিয়োগ দেখিয়েছেন। যদিও এ খাতে তার নিজের বিনিয়োগ স্ত্রীর প্রায় অর্থেক ৩৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৫৬ টাকা। এর আগে ২০০৮ সালে ১৫ লাখ ৭ হাজার এবং ২০১৩ সালে ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৩২৬ টাকা এ খাতে নিজের বিনিয়োগ দেখান এনামুল হক।

এনামুল হকের নামে আছে ১ কোটি ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৯ টাকা অর্জনকালীন মূল্যের কৃষিজমি। কিন্তু কৃষি খাত থেকে কোনো আয় নেই তার। আর স্ত্রীর নামের ১৫ লাখ টাকা মূল্যের কৃষিজমির আয় দেখানো হয়নি। এর আগে ২০০৮ সালে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার কৃষিজমি থেকে ৪০ হাজার এবং ২০১৩ সালে ১ কোটি ৫৪ লাাখ ৬৩ হাজার ২০০ টাকার কৃষিজমি থেকে ৫ লাখ টাকা আয় দেখান। ২০০৮ সালে না থাকলেও ২০১৩ সালে স্ত্রীর নামে কৃষিজমির পরিমাণ দেখান দেড় লাখ টাকার।

২০১৮ সালে তার নিজের নামে ৬৯ লাখ ৪৮ হাজার ২০৫ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার অকৃষিজমি দেখিয়েছেন এনামুল হক। এর আগে ২০১৩ সালেই একই পরিমাণ অকৃষিজমি দেখান তিনি। তবে ২০০৮ সালে নিজের নামে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার অকৃষিজমি দেখানো হয়।

২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত তিন মেয়াদেই নিজের নামে ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৩৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক দালান দেখিয়েছেন। তাদের দুজনেরই বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। ২০১৮ ও ২০১৩ সালে তার বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ভাড়া থেকে আয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে এ খাতে তার কোনো আয় ছিল না।

এ ছাড়া এনামুলের ব্যবসা থেকেই ২০১৮ সালে ২৪ লাখ এবং ২০১৩ সালে ২০ লাখ টাকা আয় ছিল। তবে ২০০৮ সালে এ খাতে কোনো আয় দেখানো হয়নি। এমপি হিসেবে ভাতা থেকে ২০১৮ সালে ১৬ লাখ এবং ২০১৩ সালে ১ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন এনামুল। এর আগে ২০০৮ সালে বেতন থেকে আয় দেখান ২০ লাখ টাকা। সেবার তার নির্ভরশীলদের আয় ছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা।

এমপি এনামুল হকের নামে এখন দুটি টয়োটা হার্ড জিপ রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ লাখ ৪২ হাজার ৮০২ টাকা মূল্যের (ঢাকা মেট্রো-গ-১৩-৪২-৪০) জিপটি ২০১৩ সালেও দেখানো হয়েছে। ২০১৮ সালে যুক্ত হওয়া টয়োটা হার্ড জিপটির (ঢাকা মেট্রো গ-১৫-৩৮৫৫) মূল্য ৮৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৯ টাকা।

স্ত্রীর মালিকানায় থাকা ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের টয়োটা জিপটি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৫৭৬৫) দেখিয়েছেন ২০১৩ সালেও। তবে ২০০৮ সালে হলফনামায় নিজের কোনো মোটরগাড়ি দেখাননি এনামুল হক। ২০০৮ সাল থেকেই বিয়ের দান হিসেবে নিজের ৪০ তোলা এবং স্ত্রীর নামে আরও ৪০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার দেখিয়ে আসছেন এনামুল হক।

এ ব্যাপারে জানতে এমপি এনামুল হকের মোবাইল (০১৭১১-৫২৮৩৪৬) ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সুত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা, আপলোড : ২৩ জুন, ২০২০ ০০:০২।

Please follow and like us: