চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ইচ্ছামতো বিল, ফার্মেসিতে নৈরাজ্য, নেই কোনো নীতিমালা

June 25, 2020 2:42 am

নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রামের ২০টি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা আছে প্রায় ১৪০টি, কেবিনসহ সাধারণ শয্যা আছে ৭০০। কিন্তু করোনার এমন স্পর্শকাতর সময়ে এসব হাসপাতালের আইসিইউ ও সাধারণ শয্যায় রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ আছে। ক্ষেত্রবিশেষ সাধারণ রোগী ভর্তি করা হলেও চড়া মূল্য গুনতে হয় রোগীদের। অন্যদিকে ফার্মেসিগুলোয় চলছে চরম নৈরাজ্য। ওষুধ বিক্রি করছে ইচ্ছামতো।

অভিযোগ আছে, বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ও সাধারণ শয্যা ভাড়ার কোনো নীতিমালা নেই। ফলে হাসপাতালগুলো ইচ্ছামতো বিল করে। বর্তমানে মানভেদে দৈনিক একটি আইসিইউ ভাড়া নেওয়া হয় ১৫ থেকে ২৫ হাজার এবং কেবিন ২ থেকে ৬ হাজার টাকা। তবে হাসপাতালগুলো সার্ভিস চার্জের নামে মূল বিলের ওপর ২০ শতাংশ টাকা আদায় করে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালগুলো টাকার বিনিময়ে সেবা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে টাকা বেশি আদায় করা হয় বলে অভিযোগ আছে। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কিছুটা এলোমেলো হয়।’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) চট্টগ্রাম বিভাগের করোনাবিষয়ক সমন্বয়ক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘করোনাকালে বেসরকারি হাসপাতালগুলো অমানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে। কোনোটি রোগী ভর্তি করাচ্ছে না, কোনোটি ভর্তি করলেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ আসছে। এগুলো অন্যায়।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালকে করোনার চিকিৎসায় উপযোগী না করায় এমনটি হচ্ছে। তা ছাড়া একটি চক্র হলি ক্রিসেন্ট নিয়ে যা করছে তা তো চট্টগ্রামসহ দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় কিছু ওষুধের মূল্যের ঘোড়দৌড়।

ফার্মেসিগুলো বিশেষ করে প্যারাসিটামল, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিহিস্টামিন, ভিটামিন-সি জাতীয় ওষুধ, মোনাস ১০ মিলিগ্রাম, অ্যাজিথ্রোসিন, জিঙ্কসহ এ-জাতীয় ওষুধ কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করছে। ৭৫০ টাকা দামের আইভেরা ৬ মিলিগ্রাম ৬টির প্যাকেট ২ হাজার ৪০০, ৫০ টাকার স্ক্যাবো ৬টির পাতা ৫০০, ৩৬০ টাকার রিকোনিল বিক্রি করছে ৬০০ টাকায়। ফার্মেসিগুলোর অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ বিক্রির অভিযোগে জেলা প্রশাসন সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘হাজারী গলির ২৯ ফার্মেসিকে এক দিনেই ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিনিয়তই অভিযান পরিচালিত হয়। কথা হচ্ছে, ফার্মেসি মালিকদেরও একটু নৈতিকতাবোধ থাকা উচিত।’ ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘বর্তমানে ওষুধের কোনো সংকট নেই। বাজারে ইচ্ছা করে কিছু ফার্মেসি অসদুদ্দেশ্যে ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।’

চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গঠিত বিভাগীয় কমিটির সভায় করোনা চিকিৎসায় নগরের ১২টি বেসরকারি হাসপাতালকে আইসিইউ, ভেনটিলেটরসহ ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের পরও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে রোগী ভর্তি না করার অভিযোগ আছে। প্রতিদিনই বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন মানুষ। এ অবস্থায় ২৪ মে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কভিড-নন কভিড রোগীদের সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে সরকারের এসব সিদ্ধান্ত মানা হয়নি।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য খাতে চলছে নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতি। অভিযোগ আছে, বেসরকারি এক হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে দিয়েই রক্ষা করা হয়েছে বেসরকারি ১২টি হাসপাতাল। কিন্তু হলি ক্রিসেন্টও চলছে সরকারি ব্যবস্থাপনায়। চরম অব্যবস্থাপনায় ভর্তি হচ্ছে না রোগী। গত রবিবার সরকারের একজন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব এ হাসপাতালে এক দিন থেকে বিনা চিকিৎসা ও চরম অবহেলায় অন্য আইসোলেশন সেন্টারে চলে যেতে বাধ্য হন। অথচ হলি ক্রিসেন্টকে করোনার জন্য প্রস্তুত করতে নগরের প্রতিটি হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা করে চাঁদা আদায়ের জন্য চিঠি দেয় হাসপাতাল মালিক সমিতি।

Please follow and like us: