মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম উবির রেজাল্টে এলাকাবাসীর উদ্বেগ : ফেসবুকে সমালোচনা ঝড়

June 30, 2020 6:34 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট এবার খুবই অসন্তোষজনক হয়েছে। এতে করে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মনে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ, উৎকন্ঠা। ২০২০ শিক্ষাবর্ষে এই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ১৭৬ জন। কৃতিকার্য হয়েছে ৮২ জন, পাশের হার ৪৬.৫৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।

গত বছরের চেয়ে এবারের রেজাল্ট অকৃতকার্যে নেমে এসেছে ৫০ শতাংশ। যেখানে এ বছর অভিভাবকদের আশা ছিল শতভাগ পাশ। কিন্তু ৪৬.৫৯ শতাংশ পাশের হারে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী। তারা দায়ী করছেন শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটিকে। আবার কেউ কেউ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে অযোগ্য বলেও বিবেচিত করেছেন। কয়েকজন অভিভাবক জানান, করোনা ভাইরাস মহামারী না থাকলে আমরা স্কুলে এসে প্রকাশেই প্রতিবাদ গড়ে তুলতাম। এমন ফলাফল হলে আমরা ছেলে মেয়েদের কিভাবে এই স্কুলে লেখাপড়া করাবো। আবার অনেকেই হতাশা প্রকাশ করে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী সোহেল রানা লিখেছেন: আমাদের বিদ্যালয়ের এবারের রেজাল্ট নিয়ে আপনাদের মতো আমিও অনেক হতাশ, বোর্ড এর রেজাল্ট পাশের হার যেখানে ৮৫.২২% সেখানে আমাদের স্কুলের রেজাল্ট ৪৬.০২% সত্যিই অনেক হতাশজনক। তাই অনেক প্রাক্তন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করে আলোচনা-সমালোচনা করছেন। সেখানে শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরকেও দায়ী করেছেন।

এসএম সেলিম রেজা নামে একজন লিখেছেন: অযোগ্য ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা ও কিছু অসাধু-স্বার্থান্ধ শিক্ষকবৃন্দের উদাসীনতার কারনে শৈশবের প্রাণ প্রিয় মমরুজকান্দি সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষাব্যবস্থা আজ চরম হুমকির মুখে। একটি তদন্তকমিটি গঠনের মাধ্যমে ফলফল বিপর্যয়ের কারন অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন তৈরী প্রস্তুত করতে হবে। এই প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনটি প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মিটিং কলের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের হাতে হাতে স্কুলের ফলাফল বিপর্যয়ের কারন উল্লেখ্য করতে হবে। আগামীতে এই শোচনীয় অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য করণীয় কি কি তার একটা স্বচ্ছ প্রতিবেদনের কপি লিখিত আকারে প্রদান করার দাবীও জানান তিনি। এছাড়াও মাছুম রাব্বানীসহ আরো অনেকেই এই ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের উদাসীনতাকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেছেন। এই বিষয়ে নিয়ে শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে দ্বন্ধ। করোনাকালীন সময়ে স্কুলে গোপনে কয়েক দফা মিটিংও হয়েছে। এতে উচ্য বাচ্য ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুল সংশ্লিষ্ট কিছু লোক জানান, গেল বছর প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা পূর্ণমিলনী করার কারণে স্কুলে কয়েক দফা সভা, সমাবেশ করায় ও শিক্ষকদের পূর্ণমিলনী করার কাজে ব্যবহার করার কারণে ফলাফলে এক ধ্বস দেখা দিয়েছে। প্রাক্তনরাই আবার রেজাল্টের জন্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছে। কয়েকজন অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের উধাসিনতা ও দূর্নীতি অনিয়মকেও দায়ী করেছেন। প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম লেখাপড়ার দিকে নজর না দিয়ে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়, রেজিষ্ট্রেশন ফি আদায়, পরীক্ষার ফি আদায়সহ নানান অনিয়ের অভিযোগও করেছেন অভিভাবকরা। গত কয়েক বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন ফি আদায় করেছেন। তাছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা ফি ২৫ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা ও ৩০ টার স্থলে আদায় করেছে ৬০০ টাকা করে। এসব বিষয় নিয়ে গত বছর ও এর আগের বছরও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল।
এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি হননি।

Please follow and like us: