বেগম রোকেয়া স্কুলে আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বহিরাগতরা

July 6, 2020 11:16 pm

মোঃ খোকন প্রধান

নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে অবস্থিত বেগম রোকেয়া খন্দকার পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে নব্য আওয়ামীলীগার বহিরাগতরা। বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এই বহিরাগত নব্য আওয়ামীলীগার মো. হাসান, সেলিম খন্দকার, রবু খান ও দুলু মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময় তারা চাঁদা দাবি ও স্কুল পরিচালনা কাজে বাধাগ্রস্থ করছে। স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ ও সকল ব্যবস্থাপনা তাদের অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে এমনই হুংকার দেন এই বহিরাগতরা। সরেজমিনে জানা যায়, এই নব্য আওয়ামীলীগার সেলিম খন্দকার, হাসান সহ তার সহযোগীরা। বেগম রোকেয়া স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কোন পদে নেই এবং তাদের কোন সন্তান এই স্কুলে পড়াশোনা করে না। নিয়ম অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটিতে থাকতে হলে সদস্যদের সন্তানদের এই স্কুলে পড়াশোনা করতে হবে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে না থাকার পরেও এই বহিরাগতরা জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করছে। তাদের কথা না শুনলে চালানো হচ্ছে হামলা ও প্রান নাশের হুমকি এমনই অভিযোগ করেছেন বেগম রোকেয়া স্কুলের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি। এদিকে সরেজমিনে জানা যায়, এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার ছত্রছায়ায় ও তার ইদ্ধনে এই নব্য আওয়ামীলীগার বহিরাগতরা এই স্কুলে আধিপত্য বিস্তার করতে উঠে পরে লেগেছে।

এই স্কুলটিতে দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। এত দিন হাবিবের বিরুদ্ধে স্কুল পরিচালনা করার বিষয় কোন প্রকার অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানায় স্কুলটির দায়িত্বরত একাধিক শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি সদস্য সহ অভিভাবকরা। এদিকে এই স্কুলটিতে আধ্যিপত বিস্তার করতে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের নিয়ে নানা রকম অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে এই বহিরাগতরা এমন অভিযোগ জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনার বিষয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, আমি এই বেগম রোকেয়া স্কুলে দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছি। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি। কোন প্রকার অন্যায়ের সাথে আমি আপোষ করিনি কখনো। ইদানিং কিছু নব্য আওয়ামীলীগার হঠ্যাৎ করেই বেগম স্কুলে আধ্যিপত বিস্তার করতে উঠে পরে লেগেছে। আমাকে সেলিম খন্দকার, হাসান, রবু খান ও দুলু মিয়া বিভিন্ন সময় ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তারা প্রায়ই আমাকে বলে, এই স্কুলে থাকলে হলে আমাদের চাদা দিতে হবে। গত কয়েকদিন আগে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের সময় বাধগ্রস্থ করে তারা। হুমকি প্রদান করে বলেন আমাদের অনুমতি ছাড়া কোন শিক্ষক নিয়োগ ও কোন কিছু এই স্কুলে করা যাবে না। তাদের কথা না শুনলে স্কুলের ভিতর ঢুকে আমার উপর হামলা চালায় এবং প্রাননাশের হুমকি দেয়। এরা এখন ১৫/২০ জনের একটি সন্ত্রাসী টাইপের লোক নিয়ে আমার বাড়ির আশেপাশের ঘোরাফেরা করে এবং বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিচ্ছে । এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ব্যাপারে আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা সুলতানার বেগমের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি সরকারী বিধি মোতাবেক পরিপূর্ন যোগ্যতা নিয়ে ২০১৫ সালে বেগম রোকেয়া স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেছি। এখনো এই স্কুলে সরকারী নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করছি। আমার বিরুদ্ধে কিছু লোক বলছেন আমি বৈধভাবে নিযোগ পাইনি। যা সম্পূর্ন মিথ্যা। আমার নিয়োগের বিষয়ে যথেষ্ট প্রমান রয়েছে। স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এই স্কুলে দায়িত্ব রত অবস্থায় হাবিবুর রহমানের কাজে অনিয়ম দেখিনি। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিব সুনামের সাথে এই স্কুলে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্কুলটির অভিভাবক প্রতিনিধী মো. রিপন জানান, আমাদের সভাপতি হাবিব ভাই নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এই স্কুলের উন্নয়নে ভাল কাজ করেছেন। কিছু বহিরাগতরা এই স্কুল থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। হাবিব ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই বহিরাগত সংঘবদ্ধ চক্রটি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আমাদের স্কুলের কাজে বাধাগ্রস্থ করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম খন্দকার বলেন, আমি বেগম রোকেয়া স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির কোন সদস্য না। আমার কোন সন্তান এই স্কুলে পড়াশোনা করেনা। আমি এই এলাকার স্থানীয়।

Please follow and like us: