আধুনিক কৃষিতে ভূমিকা রাখবে ‘নগদ’

July 9, 2020 10:57 am

অনলাইন ডেক্সঃ

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের আর্থিক লেনদেন সেবা ‘নগদ’-এর উদ্যোগে গত শুক্রবার আয়োজন করা হয় ‘মানুষ বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ অনলাইন টক শো। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক অংশগ্রহণ করেন। অতিথি হিসেবে সুইডেন থেকে অংশগ্রহণ করেন জুটবোর্গ সুইডেন এবি এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টিনা ওস্টাগ্রেন। অনলাইন টক শো সঞ্চালনা করেন ‘নগদ’-এর হেড অব মার্কেট ডেভেলপমেন্ট সোলায়মান সুখন।

আলোচনায় বক্তারা ডিজিটাল বাংলাদেশে কৃষির বর্তমান অবস্থা ও কৃষির আধুনিকায়নে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব বিষয়গুলো তুলে ধরেন। যেখানে টাকা লেনদেন করার জন্য ‘নগদ’-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রসঙ্গ এসেছে প্রাসঙ্গিকভাবে। পাশাপাশি কৃষকদের কষ্ট ও শ্রমের মূল্য নিশ্চিত করতে তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রদান ও পণ্য উৎপাদন, বাজারজাত ও বিপণনে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার কথাও এসেছে।

দেশে কৃষির উন্নয়নে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের ৪০ ভাগ মানুষের জীবিকা আসে কৃষি থেকে। বর্তমান কোভিড-১৯ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলেছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও এই মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। এই মহামারির মধ্যেও এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ধানের দামও ভালো পাওয়া গেছে। করোনা মোকাবিলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃষির সকল ক্ষেত্রে উৎপাদন খুবই ভালো এবং দৃশ্যমান। যা বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে। এ বছর ইন্দোনেশিয়াকে ডিঙিয়ে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। আমরা মনে করি না আগামী পাঁচ-ছয় মাস দেশে খাদ্য ঘাটতি হবে।
মাননীয় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, “এখন আম ও লিচু বিক্রি হচ্ছে। আমি ‘নগদ’-কে অভিনন্দন ও স্বাগত জানাই। কারণ অনেক কৃষকই ‘নগদ’-এর মাধ্যমে আম ও লিচু বিক্রির টাকা পাচ্ছেন”।

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, এখন আম ও লিচু বিক্রি হচ্ছে। আমি ‘নগদ’-কে অভিনন্দন ও স্বাগত জানাই। কারণ অনেক কৃষকই ‘নগদ’-এর মাধ্যমে আম ও লিচু বিক্রির টাকা পাচ্ছেন। আমার বিশ্বাস কৃষকেরা আরও বড় পরিসরে ‘নগদ’ ব্যবহার করবেন। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজারজাতকরণ ও কৃষককে লাভবান করার জন্য ‘নগদ’ কৃষকদের পাশে থাকবে। ইতিমধ্যে আমরা এ বিষয়ে আদেশ দিয়েছি যেন ‘নগদ’ ব্যবহার করা হয়। ‘নগদ’ যেন আমাদের আলোর মুখ দেখায়, সেই প্রত্যাশা করি। তানভীর মিশুককে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, তানভীর মিশুকরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘নগদ’ কৃষক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের খরচ কমিয়ে আনার জন্য ২০ টাকার খরচ ৬ টাকায় নামিয়ে এনেছে।“

বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাননীয় মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ যে, এই মহামারির সময়ে তিনি ডাক বিভাগ ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে জরুরি সেবার আওতায় নিয়ে এসেছেন। যার ফলে ডাক বিভাগের কোনো কর্মী এই মহামারির সময়ে বসে থাকেনি। এই উদ্যোগের ফলে কৃষকদের উৎপাদিত শস্য বিনা খরচে ঢাকায় আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘নগদ’ কৃষক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের খরচ কমিয়ে আনার জন্য ২০ টাকার খরচ ৬ টাকায় নামিয়ে এনেছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, হাজারে ২০ টাকা ফি দেওয়ার একটি মডেল এই দেশে এক যুগ ধরে চলে আসছিল। মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের পরামর্শে ‘নগদ’ নিয়ে আসে ‘স্বাধীন’। যেখানে প্রতি হাজার টাকায় ফি দিতে হয় ৬ টাকা। এরপর ডাক বিভাগের উদ্যোগের মাধ্যেমে কৃষকের ফসল নিয়ে ডাক বিভাগের গাড়িতে ফসল ঢাকায় এনে দিয়েছে। এক্ষেত্রে স্বপ্ন, আগোরা ও চালডাল ডটকম-কে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

কৃষির কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন আনলে তা দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, কৃষক যেন ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত না হন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন। ‘নগদ’-এর মাধ্যমে পেমেন্ট পেতে পারেন। এজন্য মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কৃষি মন্ত্রণালয়ের যত ভাতা, অনুদান আছে সবই ‘নগদ’-এর মাধ্যমে প্রদান করার জন্য তিনি আদেশ দিয়েছেন। যে কৃষকের টাকা, ভাতা সেই কৃষকই পাবেন এবং সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চলে যাবে, এই প্রতিশ্রুতি তিনি প্রদান করেন।

করোনা মহামারির এই সংকটে কর্মীদের বেতন ও সুরক্ষার বিষয়ে ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে ‘নগদ’-এর অনেক কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। যে কারণে ‘নগদ’-এর কোনো কর্মী আক্রান্ত হলে তাঁকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। কারও বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা হবে না। পাশাপাশি কারও চাকরিও যাবে না।

সুইডেন থেকে অংশ নেওয়া জুটবোর্গ সুইডেন এবি এর সহ প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টিনা ওস্টাগ্রেন বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে টেকসই পণ্য হচ্ছে পাট। বাংলাদেশের সোনালী আঁশ। টেকসই বিষয়টি তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। অর্থনীতি ও সামাজিক ভীত। বাংলাদেশ ১৬ কোটি ৫০ লাখ লোকের দেশ। বাংলাদেশে এক তৃতীয়াংশ মানুষ পাট শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিকভাবে পাট খুবই টেকসই একটি পণ্য এবং এটি প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। আমরা গ্লাস ফাইবারের পরিবর্তে পাট ফাইবার ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরির পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যেখানে আমরা অনেক বেশি সফল হয়েছি।

বাংলাদেশে নিজেদের কাজ ও উদ্যোগের বিষয়ে জানিয়ে ক্রিস্টিনা ওস্টাগ্রেন বলেন, বাংলাদেশে ফরিদপুরে আমাদের কারখানা ভবন তৈরি হয়েছে। মেশিন কেনার জন্য বায়না দেওয়া হয়েছে। কোভিড-১৯-এর কারণে উৎপাদন শুরু করতে দেরি হয়েছে। আশা করি আগামী বছরের শুরুতে উৎপাদন শুরু করতে পারব। আমাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য অবশ্যই স্বল্প মূল্যের হবে। বাংলাদেশে পাঁচ কোটি মানুষ পাট উৎপাদন বা এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের এই উদ্যোগে সফল হতে হলে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সহায়তার প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠান শেষে ক্রিস্টিনা ওস্টাগ্রেন-এর উদ্যোগে পাশে থাকার কথা জানান মাননীয় কৃষিমন্ত্রী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। তাঁরা ক্রিস্টিনা ওস্টাগ্রেনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের কৃষকের জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। পাশাপাশি তাঁরা যেকোনো সহায়তা করার আশ্বাসও প্রদান করেন।