শাহেদের রিজেন্ট কে সি এস পূর্বাচল থেকেও হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা

July 13, 2020 11:31 pm

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে পূর্বাচলেও রয়েছে জালিয়াতির বিস্তর অভিযোগ। পূর্বাচল থেকেও হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এমনই দাবী স্থানীয় ঠিকাদারদের।

জানা গেছে, পূর্বাচল প্রজেক্টের সাব ঠিকাদারি পাওয়ার কথা বলে রিজেন্ট কে সি এস লিঃ এর নামে বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে ইট, বালু, রঢ,  সিমেন্ট, ডিজেলসহ নিয়েছেন বিভিন্ন সামগ্রী। এই ঠিকাদারদের কাছ থেকে এসব মাল নিয়ে টাকা না দিয়ে উল্টো চাঁদাবাজির মামলাসহ বিভিন্ন হুমকী ধামকী দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। এমনই এক ভুক্তভোগী সোনার বাংলা ট্রেডার্সের মালিক মোঃ সোহেল রানা।

গত ১৮ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে রিজেন্ট কে সি এস লিঃ মেসার্স সোনার বাংলা ট্রেডার্সকে লিখিতভাবে ইট এবং ডিজেল দেওয়ার জন্য চুক্তিবব্ধ করে। উক্ত চুক্তিপত্র মোতাবেক গত ২০ এপ্রিল ২০১৯ তারিখ হতে ১৫ মে ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত সোনার বাংলা ট্রেডার্স ৩২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ইট এবং ডিজেল প্রদান করে। চুক্তি মোতাবেক প্রতিদিন ডিজেলের বিল এবং প্রতি সপ্তাহে ইটের বিল প্রদান করার চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক প্রথম সপ্তাহে ৩ লাখ টাকা প্রদান করলেও পরবর্তীতে বিল নিয়ে রিজেন্ট কে সি এস লিঃ তালবাহানা শুরু করে।

গত ২১ মে সোনার বাংলা ট্রেডার্সের মালিক সোহেল রানা বিলের জন্য রিজেন্ট কে সি এস লিঃ এর অফিসে গেলে অফিস থেকে জানানো হয় ৫০ লাখ টাকার মাল প্রদান করে সম্পূর্ণ বিল এক সাথে নেওয়ার জন্য। সোনার বাংলা ট্রেডার্সের মালিক বাকীতে আর মাল দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শাহেদের অফিসের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

শাহেদের রিজেন্ট কে সি এস লিমিটেড সোনার বাংলা ট্রেডার্সের বিল না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। ২১ মে ২০১৯ তারিখে রাতে পূর্বাচলের ১০ নম্বর সেক্টরে লেক খননের জায়গায় শাহেদের লোকজন গোলাবারুদ বিস্ফোরিত করে এবং উক্ত স্থানের পাহারাদারদের নির্দেশ দেয় তারা যাতে সোহেল রানা এবং তার পার্টনার আকবরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে মারপিট করে সাইড অফিস থেকে টাকা লুটপাট করেছে এবং ডিজেল লুটের অভিযোগ আনে। এই অভিযোগ না আনলে পাহারাদারদের চাকুরীচুত্যসহ জীবন নাশের হুমকী দেয় শাহেদের সন্ত্রাসী বাহিনী।

সোহেল রানা আরো জানান, শাহেদের লোকজন রিজেন্ট কে সি এস গ্রুপের পরিচালক পারভেজ আমার নাম্বারে ফোন করে গালিগালাজ করে এবং তারা শেখ হাসিনার লোক বলে জানায়। বিলের জন্য আর কোন চেষ্টা করলে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকী দেয় এবং এলাকা ছাড়া করবে বলে জানায়। এরপরও আমি বিল পাওয়ার চেষ্টা করলে গত ২২ মে ২০১৯ তারিখে আমি এবং আমার ব্যবসায়িক পার্টনার মোঃ আকবর হোসেন ও মোঃ কাশেমের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা করে। পরবর্তীতে তদন্তে ঘটনা মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে আমাদের সাথে রিজেন্ট কে সি এস লিঃ উক্ত গ্রুপের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল আহাদের মাধ্যমে মীমাংসা করে।

কিন্ত আমাদের পাওনা ৩২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আর পাইনি। তাদের প্রশাসনিক শক্তির কারনে আর বিল চাওয়ার সাহস করিনি। শাহেদের ভূয়া করোনা রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগের মাধ্যমে তার আসল চেহারা উন্মোচিত হলে আমার পাওনা টাকার ব্যাপারে মুখ খুলার সাহস পেলাম।

সোহেল রানা আরো জানান, পূর্বাচলে আমার মতো আরো অনেক ভূক্তভোগী আছে যারা দেড় কোটি দুই কোটি টাকা করে বিল পাবে। কিন্ত শাহেদের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে তারা বিল চাওয়ার সাহস পায়নি।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, শাহেদ তার রিজেন্ট কে সি এস গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে ইট, বালি, রঢ, সিমেন্ট সংগ্রহ করে অন্যত্র বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিতো। পূর্বাচল থেকে রাতের অন্ধকারে অন্যত্র মালামাল সরিয়ে নিতো।

সোহেল রানা আরো জানান, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদের নির্দেশে রিজেন্ট গ্রুপের এমডি রবিউল,  প্রকল্প পরিচালক বারি এবং আরেক প্রকল্প পরিচালক পারভেজ এসব ধান্দার কাজ তদারকি করতো।

 

Please follow and like us: