পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিতে শ্রমিক অসন্তোষ॥ সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা

August 4, 2020 5:46 pm
Spread the love

এম এ আলম বাবলু, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির উৎপাদন ঠিকাদার জিটিসি’র নিয়ন্ত্রনাধীন খনি শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকেরা তাদের দাবী দাওয়া আদায়ের জন্য সভা সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে৷ এই অসন্তোষ নিরসনে দফায় দফায় বৈঠকও চলছে৷ সোমবার বিকেলে সমঝোতা বৈঠক হয়েছে৷ বৈঠকে পার্বতীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক,উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ মিথুন মুন্নী,উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন, পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মোঃ মোখলেছুর রহমান সহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্হিত ছিলেন৷ বৈঠক চলাকালীন সময়ে মোবাইল ফোনে সংযুক্ত হন সাবেক মন্ত্রী এড.মোস্তাফিজুর রহমান এমপি৷ বৈঠকে তাদের ৬ দফা দাবী বাস্তবায়নে অনড় থাকেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ৷ আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সমঝোতা বৈঠক চলছে৷ বৈঠকের সিন্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্হা গৃহিত হবে৷ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল৷ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যার কারণে চারমাস ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ফলে খনির ৮০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে এবং তাদের বেতনভাতাও বন্ধ রয়েছে। বেকার হয়ে পড়া অসহায়, হতদরিদ্র এসব শ্রমিক অর্থকষ্টে অমানবিক জীবণ যাপন করছেন৷ খনির উৎপাদন ঠিকাদার জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এর সাথে শ্রমিকদের মতবিরোধের কারনে এ অবস্হার সৃষ্টি হয়েছে। এই জিটিসি ৬ বছরে ১৭১.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে খনি ভূগর্ভে ১২টি স্টোপ উন্নয়ন করে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলন করে দেওয়ার চুক্তি করে মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষের সাথে। তারা ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী পাথর উত্তোলন শুরু করে। মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির উৎপাদন, রক্ষনাবেক্ষণ ও পরিচালন ঠিকাদার জিটিসি’র সাথে শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষের মতবিরোধ লেগেই আছে। ৬ বছরে ৯২ লাখ টন পাথর উৎপাদন লক্ষমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন করেছে মাত্র ৩৮ লাখ টন। এই ঠিকাদার পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে ড্রিলিং, ব্লাস্টিং, ক্র্যাশিং ও সর্টিং করার সময় ৭-৮ শতাংশ ০-৫ (শুন্য থেকে ৫ মিলিমিটার) মিলিমিটার আকারের ডাস্ট স্থলে ১৩-১৪ শতাংশ ডাস্ট বাহির করে। করোনাকালের আগে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার টন পাথর উত্তোলন করা হয়। এই পরিমাণ পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে ৬৫০-৭০০ টন ডাস্ট বাহির হয়। অথচ ৭-৮ শতাংশ হলে ডাস্ট বাহির হতো ৩০০-৪০০ টন। প্রতিটন ডাস্ট বিক্রিমুল্য ১০.০ ডালার আর প্রতিটন পাথরের গড় বিক্রি মুল্য ৩১.৪০ ডলার। এতে করে খনির বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়। স্পেয়ার পার্স খাতে ৬ বছরের জন্য বরাদ্দ ১২ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু জিটিসি নানা তালবাহানা করে ১৯ মাসে সাড়ে ১১ মিলিয়ন ডলারের বেশী খরচ করে ফেলে এবং পরে অতিরিক্ত ১৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করে। খনির শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ না দিয়ে এ খাতের বরাদ্দ অর্থও দাবি করে বলে জানা যায়৷