শ্রীবরদীতে দিন মজুর আইয়ুব আলীকে হত্যার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন

August 7, 2020 9:47 pm

রমেশ সরকার, শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শ্রীবরদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দিন মজুর আইয়ুব আলীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আইয়ুব আলীর পরিবারের লোকজন প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম পাক্কীর ছেলে
রাসেল (২৫) ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেন। হত্যার অভিযোগ এনে ০৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ সংম্মেলন করেন নিহতর
ছেলে ছামিউল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন। সংবাদ সম্মেলন শেষে আইয়ুব আলী হত্যার বিচারের দাবীতে এলাকাবাসী এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময়
এলাকাবাসী আইয়ুব হত্যার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার জানান, ৩০ জুলাই গভীর রাতে অভিযুক্ত রাসেল
মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন আইয়ুব আলীর বাড়িতে গিয়ে নিহত আইয়ুব আলীর পরিবারকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে আইয়ুব আলীকে হত্যার হুমকি দেয়। সেই
রাত থেকে আইয়ুব আলী নিখোজ হয়। পরে ০১ আগস্ট তাতিহাটি পশ্চিম পাড়া কাফি মিয়ার পরিত্যক্ত ডুবার পানিতে আইয়ুব আলীর লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা।

সংবাদ পেয়ে নিহতের পরিবারের লোকজন গিয়ে আইয়ুব আলীর লাশটি সনাক্ত করে। স্থানীয়রা পুলিশকে সংবাদ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের
জন্য শেরপুর জেলা মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় শ্রীবরদী থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। ০৫ আগস্ট নিহতের ছেলে ছামিউল ইসলাম বাদী হয়ে রাসেল মিয়া সহ ৬
জনকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামীরা প্রভাবশালী ও অর্থশালী হওয়ায় উক্ত মামলার খবর পেয়ে মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের প্রাণ
নাশের হুমকি দেয়। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সংবাদ সম্মেলনে ছামিউল বলেন আমি না বুঝে থানায় অপমৃত্যুর মামলায়
স্বাক্ষর করেছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাসেল মিয়ার বড় ভাই রিপন মিয়া সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, সন্দেহমূলকভাবে আমাদেরকে সামাজিক ভাবে
হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমন অভিযোগ করেছে। আমাদের প্রজেক্ট থেকে মাছ ধরার বিষয়ে রাসেলসহ আরো কয়েকজন তার বাড়িতে গিয়ে মাছ না ধরার জন্য বলে
আসেন। এ ঘটনার সঙ্গে আমরা কেউ জড়িত নই। শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী
হয়ে শ্রীবরদী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য শেরপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।