নওগাঁ জেলায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা

September 28, 2020 10:36 am
Spread the love

নওগাঁ ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ হাবিবুর রহমান (হাবিব)

কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি বেড়ে নওগাঁ জেলায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মান্দা এবং আত্রাই উপজেলায় নদীর তীরের জনপদে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ উজ্জামান খান জানিয়েছেন, আত্রাই নদীর পানি তিনটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর শিমুলতলী পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার, মান্দার জোতবাজার পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নওগাঁয় ছোট যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আরিফ উজ্জামান।

প্রথম দফা বন্যার পর জেলার কৃষকরা দ্বিতীয় পর্যায়ে যে ধান রোপণ করেন সেই খেত তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। মান্দা উপজেলায় কসব ইউনিয়নের বনপুরায় আত্রাই নদীর ডানতীরের মূল বাঁধে আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে মান্দা উপজেলার কসব, নুরুল্যাবাদ ও বিষ্ণপুর ইউনিয়ন, আত্রাই উপজেলা এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, বাঁধের তিনটি স্থানে যে ভাঙন দেখা দিয়েছিল, পানি উন্নয়ন বোর্ড তা মেরামতের কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু মাটির অভাবে মেরামত কাজ পুরোপুরি শেষ না হতেই আবার পানি বৃদ্ধির কারণে সেসব স্থান দিয়ে পানি জনপদে ঢুকতে শুরু করেছে। এর উপর নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানাউল ইসলাম বলেন, গত বন্যায় উপজেলায় আত্রাই নদীর বাঁধে চারটি পয়েন্টে ভেঙে যায়। এর মধ্যে শিকারপুর, ভাঙ্গা জাঙ্গাল ও মালিপুকুরের ভাঙা অংশ মেরামত করা হলেও আহসানগঞ্জের আমরুল নামক স্থানের বড় ভাঙন মেরামত চলছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে পুনরায় ভেঙে পানি জনপদে প্রবেশ করেছে।

তিনি জানান, এর ফলে আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ, পাঁচুপুর এবং নাটোর জেলার খাজুরা এবং নলডাঙ্গা উপজেলার বিশাল এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এতে ফসল ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।