লেবানন থেকে দেশে ফিরতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে হাজার হাজার প্রবাসী!

October 6, 2020 11:01 am
Spread the love

ওয়াসীম আকরাম,লেবানন থেকে :-

রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনীতি মন্দা, ডলার সংকট সেই সাথে বৈরুত পোর্টে বিষ্ফোরণে স্থবির হয়ে পড়েছে লেবানন। ধ্বংস নেমেছে ব্যবসা বাণিজ্যে, আর মহামারী করোনা ভাইরাসের আক্রমনতো রয়েছেই। দিনদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাসহ দফায় দফায় লকডাউন সব মিলিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চলছে লেবানন। এর বিশাল প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশী প্রবাসীদের উপর।এতে কর্ম হারিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার প্রবাসী, অনেকে চাকুরী পেলেও সঠিক মজুরি পাচ্ছেন না কেউ। তাই বাধ্য হয়ে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার প্রবাসী।No description available.

প্রতিদিনই লেবানন থেকে ফিরছেন প্রবাসীরা। ধারণ করা হচ্ছে প্রায় ৫ হাজারের অধীক বৈধ কাগজপত্র থাকা প্রবাসীরা এপর্যন্ত দেশে ফিরেছেন। বৈধ কাগজপত্র থাকা প্রবাসীরা সহজে দেশে ফিরতে পারলেও জটিল অবস্থা বৈধ কাগজপত্র বিহীনদের। দেশে ফিরতে না ফেরার উদ্বিগ্ন সবাই।

দীর্ঘ এক বছর ধরে লেবাননের অর্থনীতির চাকা ভেঙ্গে পড়ায় দেশে ফিরতে চায় হাজারো প্রবাসী।২০১৯ সালে সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরতে দুতাবাসে নাম নিবন্ধন করেন সাড়ে ৭ হাজারের অধীক প্রবাসী। চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত দূতাবাস নিবন্ধনকৃত এক হাজারের অধীক প্রবাসীদের দেশে ফেরাতে পারলেও করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যায় প্রবাসীদের দেশে ফেরার কর্মসূচী। জটিল থেকে জটিলতর অবস্থায় ধাবিত হয় লেবানন। দেশে ফিরতে না ফেরে অতিষ্ট হয়ে পড়ে বাংলাদেশি কর্মীরা। বিমান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হলে দেশে ফিরতে শুরু করেন তারা।No description available.

লেবাননের ডলার সংকট, চাকুরী না থাকায় দেশে ফেরার মূল কারণ বলে জানান দেশে ফিরতে ইচ্ছুক প্রবাসীরা। তারা জানান, আগে এক শত ডলার সমান দেড় লাখ লেবানিজ পাউন্ড লাগতো আর এখন আট লাখ লেবানিজ পাউন্ড এর অধিক দিয়ে করতে হয় একশত ডলার। লেবানিজ নাগরিক নিজেরা এ সংকটে ভুগছেন। এমন অবস্থায় প্রবাসীরা ভাবছেন দেশে ফেরাই উত্তম।

গত ৩ অক্টোবর শনিবার লেবানন বৈরুতে আনসার স্টেডিয়ামে ৪৯৭ প্রবাসীর হাতে বিমান টিকেট তুলে দেন বাংলাদেশ দূতাবাস। বিমান টিকেট হাতে পেয়ে তারা দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) ও দূতালয় প্রধান আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোট ৭৬৩৪ প্রবাসী দেশে ফিরতে নাম নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে ৪৩টি ফ্লাইটে ৭২২৮জন প্রবাসীকে এপর্যন্ত দেশে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ছোটখাটো মামলা সহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসকল সমস্যা সমাধান করে পর্যায়ক্রমে তাদেরকেও দেশে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

বিমান টিকেট পাওয়া প্রবাসীদের নিয়ে ৪ অক্টোবর রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট বৈরুত ছেড়ে যায় এবং ৫ অক্টোবর ভোরে বিমানটি হযরত শাহ জালাল অন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরন করে।

নিবন্ধনকৃত প্রবাসীদের দেশে পাঠানো হলেও এখনো দেশে ফিরতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বৈধ কাগজপত্র বিহীন হাজার হাজার প্রবাসী।