আখেরী চাহার সোম্বা মহা-আনন্দের পবিত্র দিন

October 14, 2020 10:24 pm
Spread the love

নিউজ ডেক্সঃ

পবিত্র ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ অর্থাৎ সফর মাসের শেষ বুধবার। ফারসী ভাষায় চাহার সোম্বা বলা হয় বুধবারকে। আর আখের মানে শেষ, তা হলে আখেরী চাহার সোম্বা মানে হল শেষ বুধবার।

এ দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) জ্বরমুক্ত হন। সুস্থ হয়ে তিনি গোসল করেন, হযরত মা ফাতেমা (রা.), ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসাইন (রা.)-কে আদর করেন, তাদের নিয়ে সকালের নাস্তা করেন, সাহাবিদেরকে সাক্ষাৎ দেন এবং নামাজে ইমামতি করেন।

দয়াল রাসুল (সা.)-এর সুস্থতায় সাহাবায়ে কেরাম খুশিতে আত্মহারা হয়ে মদিনার রাস্তায় রাস্তায় আনন্দ-মিছিল করেন এবং বিপুল দান-সাদকা করতে থাকেন।

আশেকে রাসুল হযরত বেলাল (রা.) এবং সুফফাবাসীবৃন্দ বিদ্যুৎ বেগে এ সুসংবাদ মদিনার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেন। এ সুসংবাদে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। তাঁরা বাঁধভাঙ্গা স্রোতের মতো দলে দলে এসে রাসুল (সা.)-কে এক নজর দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন।

দ্বিতীয় হিজরী সালের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইবনু ইসহাক (১৫১ হিজরী/৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) লিখেছেন, রাসূল (সা.)যে অসুস্থতায় বেসালপ্রাপ্ত হন, তা শুরু হয়েছিল সফর মাসের কয়েক রাত বাকি থাকতে। [আস সিরাহ আন নববীয়্যাহ: ইবনু হিশাম]।

এই দিন ভোরে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) হযরত আয়েশা (রা.)-কেডেকে বলেন, “হে আয়েশা সিদ্দিকা, আমার মাথা ব্যথা যেন দূর হয়ে গেছে। শরীর হাল্কা মনে হচ্ছে। আমি আজকে সুস্থ বোধ করছি।” এই কথা শুনে হযরত আয়শা (রা.) তাড়াতাড়ি পানি দ্বারা দয়াল রাসুল (সা.)-এর পবিত্র শির মোবারক ধুয়ে দেন এবং পবিত্র শরীর মোবারকে পানি ঢেলে সুন্দর করে গোসল করিয়ে দেন।

এই গোসলের ফলে দয়াল রাসুল (সা.)-এর শরীর মোবারক হতে বহুদিনের রোগজনিত ক্লান্তি ও অবসাদ বহুলাংশে দূর হয়ে যায়। তখন তিনি মা আয়শাকে (রা.) সকালের নাস্তা প্রস্তুত করতে বলেন এবং মা ফাতেমা (রা.), ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসাইন (রা.)-কে খবর পাঠিয়ে তাড়াতাড়ি আসতে বলতে বলেন।

নবী কন্যা ও ইমামদ্বয় তাশরিফ আনলে হযরত আয়শা (রা.)-কে খাবার পরিবেশনের হুকুম দেন দয়াল রাসুল (সা.)। হযরত মা ফাতিমা (রা.) ও প্রিয় নাতিদ্বয়কে খুব কাছে বসিয়ে আদর করেন এবং তাঁদের কপাল মোবারকে হুজুরে পাক (সা.) চুমু খান এবং তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সকালের নাস্তা গ্রহণ করেন।

এরপর অপেক্ষমান সাহাবীদের সাক্ষাৎ প্রদাণের জন্য দয়াল রাসুল (সা.)মসজিদে নববীতে গমন করেন। নিজেদের প্রাণাধীক প্রিয় দয়াল রাসুলকে (সা.) সুস্থ দেখে সাহাবীরা আনন্দে কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটোপুটি খান। সাহাবায়ে কেরামের আনন্দের বাঁধ যেন সেদিন ভেঙ্গে গিয়েছিল।

দয়াল রাসুল (সা.) সকল সাহাবীদের নিয়ে নামাজ আদায় করেন।

দয়াল রাসুল (সা.)-এর সুস্থতার আনন্দে আত্মহারা সাহাবারা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দান-খয়রাত করতে থাকেন।

সাহাবায়ে কেরাম, তাবেইন, তাবে-তাবেইন সহ সকল যুগেই এই দিনটিকে আনন্দের সঙ্গে পালন করেন আসছেন মুসলিমগণ। এই দিনটিতে মুসলমানবৃন্দ গোসল করেন, নতুন পোশাক পরিধান করেন এবং খোশবু লাগান। [সাইয়্যেদ আহমদ দেহলভি, ফারহাঙ্গ-ই-আসফিয়া, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৬]।

আসুন, এই সফর মাসের শেষ বুধবারে সাহাবায়ে কেরামের ন্যায় আমরাও আনন্দে উদ্বেলিত হই, সুন্দর পোশাক পরিধান করে সুগন্ধি লাগিয়ে রাসুল (সা.)-এর শানে মিলাদ ও দরুদ পেশ করি, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামর্থ অনুযায়ী ভাল খাবার গ্রহণ করি এবং রহমাতাল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করি।