সুদের টাকা এবং পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করতেই মাকে ৫ টুকরো করলো ছেলে!

October 22, 2020 11:43 pm
Spread the love

নিউজ ডেক্সঃ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামে নূর জাহানকে (৫৮) পাঁচ টুকরো করে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে হুমায়ন কবিরসহ গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এর আগে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো আনোয়ার হোসেন পিপিএম এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সংবাদ সম্মেলন করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে তারা নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আলতাফ হোসেন জানান, সুবর্ণচরে গৃহবধূ নূর জাহানকে পাঁচ টুকরো করে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত হুমায়ন কবির, সুমন, কালামকে বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

২নং আমলী আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান ১৬৪ধারায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন। এর আগে এ ঘটনায় গ্রেফতার নীরব ও কসাই নূর ইসলাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

প্রসঙ্গত, গত ৭ই অক্টোবর বুধবার বিকালে সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের একটি বিলের মাঝের বিভিন্ন জায়গা থেকে নূর জাহান নামে ওই গৃহবধূর ৫ খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ক্লু লেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের চিহিৃত করা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে জেলা পুলিশ সুপার মো আলমগীর হোসেন এর নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে।

অভিযানকালে সন্দেহজনকভাবে মৃত নারীর ছেলে হুমায়ন কবির হুমার বন্ধু নীরব (২৬) ও প্রতিবেশী কসাই নূর ইসলামকে (৩৮) আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, চাপাতি, কোদাল, বালিশ ও মৃতের পরনের শাড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে ১৬৪ধারায় আদালতে তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আগের মামলার বাদী ও মৃত নারীর ছেলে হুমায়ন কবিরকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়নের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি জড়িত তার মামাতো ভাই কালাম প্রকাশ মামুন (২৬), মামাতো বোনের স্বামী সুমনকে (২৫) ধরা করা হয়।

মায়ের জিম্মায় আনা সুদের টাকা পাওনাদারদের না দিয়ে এবং পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

গত ৮ অক্টেবর ঘটনার পরের দিন সময় সংবাদের ক্যামেরার সামনে মায়ের হত্যার বিচার চেয়েছিলেন মামলার বাদী হুমায়ুন। অথচ সে-ই যে তার মায়ের হত্যাকারী তা তখনো কেউ ভাবতেই পারেনি।