যুবলীগের কমিটিতে দুই রহিমের নাম নিয়ে বিতর্ক

November 15, 2020 8:54 pm

নিউজ ডেক্সঃ

সদ্য ঘোষিত যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদটি দুজন দাবি করেছেন। এ নিয়ে পটিয়া উপজেলার যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, ঘোষিত কেন্দ্রীয় যুবলীগের কমিটিতে ৭৯ নম্বর সিরিয়ালে ‘উপক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক’ পদে মো. আবদুর রহিমের নাম রয়েছে। কিন্তু নামের তালিকার পাশে হাতে লেখা একটি ফোন নম্বর রয়েছে, সেই নম্বরটি আবদুর রহিমের নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। সেই নম্বরটি একই উপজেলার পৌর সদরের বাহুলী এলাকার আরেক আবদুর রহিমের।যুবলীগের এক পদ দাবি দুজনের!

এ নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় ওই ফোন নম্বরসহ পৃষ্ঠাটি ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা যুবলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।

নামের পাশে উল্লিখিত নম্বরে ফোন দিলে আবদুর রহমান দাবি করে বলেন, যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাকে উপক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক পদটি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রিন্টিং মিসটেকের কারণে নামটি ভুল এসেছে। তাই মোবাইল নম্বর দিয়ে কনফার্ম করা হয়েছে।

তবে সেখানকার স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, তালিকায় মোবাইল নম্বর থাকা আবদুর রহমান যুবলীগের লোক হিসেবে কেউ চেনে না। যুবলীগের কোনো কমিটিতেও তিনি নেই। কোনো কর্মসূচিতেও তাকে কখনো দেখা যায়নি।

তাদের ধারণা, মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে আবদুর রহিমের বিরোধ রয়েছে। তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ কাজ করতে পারেন।

তালিকায় নাম থাকা আবদুর রহিমের কর্মী-সমর্থকরা মনে করেন, ‘রহিম ভাই তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা। এ নেতার বিচরণ উপজেলাসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। তিনি এবারের দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি পদের প্রার্থী’।

এ বিষয়ে যুবলীগ নেতা মো. আবদুর রহিম জানান, আমি পটিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের নির্বাহী সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয়। আমার মতো তৃণমূলের একজন কর্মীকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদে মূল্যায়ন করায় শেখ হাসিনা, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতে অতীতের মতো সংগঠনের নীতি-আদর্শকে ধারণ করে পরিচ্ছন্ন যুবলীগের কমিটমেন্ট বাস্তবায়নে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।

তবে ফেসবুকে তার নামের পাশে ভিন্ন ব্যক্তির ফোন নম্বর ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তিনি বিব্রত নন বলে জানান।

উল্লেখ্য, শনিবার কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্যাডে সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাইনুল হোসেন খান নিখিল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় যুবলীগের ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন। গণমাধ্যমে পাঠানো সেই তালিকায় কারও নামের পাশে ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল না।

তবে উপক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পটিয়ার যুবলীগ নেতা মো. আবদুর রহিমসহ ওই পৃষ্ঠায় থাকা কয়েকজনের নামের পাশে হাতে লেখা ফোন নম্বর যুক্ত করা আছে। অন্যান্য ফোন নম্বর বিষয়ে তথ্য যাচাই সম্ভব হয়নি।