মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত

November 19, 2020 4:21 pm
Spread the love

নিউজ ডেক্সঃ

চলতি বছরের শুরুতে রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামি মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার বৃহস্পতিবার দুপুরে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার আগে এই মামলার অভিযোগ গঠন হওয়ায় আগের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডই দেওয়া হয়েছে আসামি মজনুকে।

সেই সঙ্গে বিচারক তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন, যা না দিতে পারলে তাকে আরও ছয় মাস জেল খাটতে হবে।

রায়ের জন্য এদিন দুপুরে আদালতে হাজির করার পর মজনু ব্যাপক চিৎকার-চেঁচামেচি ও পুলিশ সদস্যদের গালাগাল শুরু করলে বিচারক সাংবাদিক ও উৎসুক আইনজীবীদের বাইরে যেতে বলে শুধু জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের এজলাসে থাকার অনুমতি দেন এবং পরে রুদ্ধদ্বার কক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়।

আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইডের রবিউল ইসলাম রবিকে এ মামলায় মজনুর পক্ষে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আদালত বলেছে, রাষ্ট্রপক্ষ যেভাবে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছে, তাতে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

“আর আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি বলব, আসামি ন্যয়বিচার পাননি, তিনি উচ্চ আদালতে যেতে পারেন।”

রায়ের আগে মজনুর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করলে এই আইনজীবী বলেন, “সে নেচারালি এরকম। আজ অনেক লোক যখন প্রশ্ন করেছে, সে ধর্ষণ করেছে কি না সেই সুযোগ সে উল্টো পাল্টা আচরণ করেছে অস্বাভাবিক আচরণ করেছে।”

এই বছরের ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর ঢাকার কুর্মিটোলায় নির্জন সড়কের পাশে ধর্ষণের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী। পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

তিন দিন বাদে মজনুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব জানায়, নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ১০ বছর আগে ঢাকায় আসা এই ব্যক্তিই ধর্ষণকারী।

তদন্ত শেষে দুই মাস পর গত ১৬ মার্চ ডি‌বির প‌রিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক আদালতে অভিযোগপত্র দা‌খিল ক‌রেন। তাতে শুধু মজনুকেই আসামি করা হয়। ভুক্তভোগীর পোশাক ও মোবাইল ফোনসহ ২০টি আলামত তিনি জমা দেন আদালতে।

গত ২৬ আগস্ট ভার্চুয়ালি শুনানিতে মজনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। রাষ্ট্রপ‌ক্ষে মোট ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষ্য দেননি।

দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১২ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ১৯ নভেম্বর দিন রাখেন।

ঘটনার আট মাসের মধ্যে মামলা আদালতে ওঠার পর ১৩ কার্যদিবসে বিচার শেষে এই রায় হল।