স্ত্রীর যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে পেট্রল ঢেলে আগুন দিলো পাষান্ড স্বামী

November 21, 2020 12:47 pm
Spread the love

নিউজ ডেক্সঃ

‘তোর বিষ কমাচ্ছি’ বলেই ইয়াসমিনের যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথসহ পুরো নিম্নাঙ্গে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রাফেল নামের পাষণ্ড স্বামী। আগুন নিভে যাওয়ার পর স্ত্রী বেঁচে থাকায় শরীর থেকে টেনে টেনে পোড়া চামড়াও তুলে নেন পাষণ্ড এই স্বামী। চরম বর্বরর এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের গোয়ালপুরা গ্রামের সন্ধীপ পাড়া এলাকায়। এই ঘটনায় পাষণ্ড স্বামী রাফেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। অগ্নিদগ্ধ ইয়াসমিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

লোমহর্ষক নিষ্ঠুর এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার জানান, যৌতুক দাবি করে না পেয়ে শুক্রবার ভোরে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রাফেল। স্ত্রী ইয়াছমিন যখন পেট্রোলের আগুনে পুড়ছিলো তখন ইয়াছমিন আর্তচিৎকার করে ৭ বছরের সংসার এবং ৪ বছর বয়সী সন্তানের দোহাই দিয়ে অসহায় ইয়াসমিন স্বামীর কাছে আকুতি জানাচ্ছিল যেনো তাকে এভাবে পুড়িয়ে না মারে। ইয়াছমিন প্রাণ বাঁচাতে ঘরের বাইরে পালিয়ে আসতে চাইলেও বাধা দেয় স্বামী। পুড়তে পুড়তে এক পর্যায়ে শরীরে লেপ্টে থাকা পেট্রল ফুরিয়ে গেলে ইয়াসমিনের শরীরের আগুন নিভে যায়।

কিন্তু এবার রাফেল নতুন খেলায় মাতে সে। স্ত্রীর পোড়া শরীর থেকে কাবাব করা মুরগির মতো করে চামড়া তুলে নিতে থাকেন দুই হাতের ঘষায়। একেক ঘর্ষণের সাথে খসে পড়তে থাকে পুড়ে যাওয়া চামড়া, সাথে ইয়াসমিনের মরণ চিৎকার। কিন্তু তাতেও রাফেলের নিষ্ঠুরতায় কোন হেরফের ঘটে না। উল্টো মেয়ের যন্ত্রণার খানিকটা ভাগ বাবা-মাকেও দিতে ফোন করেন ইয়াসমিনের বাসায়। এত গভীর রাতে জামাইর ফোন পেয়ে উৎকন্ঠিত শাশুড়ি ফোন তুলতেই তাকে সোজা জানিয়ে দেন, ‘তোর মেয়েকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছি। এসে নিয়ে যা’। রাফেলের পাশবিকতা-হিংস্রতার এখানেই শেষ নয়। পৈশাচিকতার চূড়ান্ত উদাহরণ সৃষ্টি করে আর্তচিৎকার করতে থাকা স্ত্রীকে রেখেই পাশের কক্ষে গিয়ে দিব্যি ঘুমিয়েও পড়েন তিনি।

এএসপি সার্কেল শামীম আনোয়ার আরো বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে বর্বর স্বামী রাফেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর রাফেলের আচরণ ছিল আরো নিষ্ঠুর। পালানোর চেষ্টারত অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার এবং স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার পরও তার ভেতর কোনো ভয়ডর কিংবা আত্মগ্লানি ছিল না। উল্টো থানা হাজতে খোশমেজাজের সঙ্গে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ার আব্দার করে পুলিশের কাছে।

স্বামীর পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ ইয়াসমিন এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্চা লড়ছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্বামী রাফেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইয়াছমিন যাতে ন্যায় বিচার পায় এবং পাষণ্ড স্বামী রাফেলের যাতে উপযুক্ত শাস্তি হয় সে ব্যাপারে করণীয় সবকিছুই করা হবে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার