ম্যারাডোনার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছি কিন্ত ক্ষমা করিনি-শিলটন

November 27, 2020 9:59 pm

স্পোর্টস ডেস্ক :

ফুটবল বিশ্বকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেলেন ম্যারাডোনা। ৬০ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি। ‘চোখ-ধাঁধানো’, ‘অসাধারণ’, ‘অত্যাশ্চর্য প্রতিভাবান’, ‘বিতর্কিত’ – বহুভাবে বর্ণনা করা হয়েছে দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে।

তিনি ছিলেন ফুটবলের এক আইকন, কিন্তু তিনি নিষ্কলংক ছিলেন না। ম্যারাডোনা ছিলেন ফুটবল খেলায় শ্রেষ্ঠ প্রতিভাবানদের অন্যতম। তার খেলায় যে দক্ষতার প্রদর্শনী, গতি, চমৎকারিত্ব, আর খেলায় কখন কি ঘটতে পারে তা আগে থেকে বুঝে ফেলার ক্ষমতা ছিল – তা ফুটবল ভক্তদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতো।

তিনি ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল শিরোপা আর্জেন্টিনার হাতে এনে দিয়েছেন প্রায় একার কৃতিত্বে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলায় ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে সেই গোলের জন্য তিনি যেমন নিন্দিত হয়েছিলেন – তেমনি অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যে কয়েকজন ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে, গোলকিপার পিটার শিলটনকে বোকা বানিয়ে তার পরের যে গোলটি করেছিলন ম্যারাডোনা- তা এখনো ‘সর্বকালের সেরা গোল’ বা ‘গোল অব দি সেঞ্চুরি’ বলে মানেন অনেকে।

কিন্তু পিটার শিলটন ওই গোলের জন্য এখনো তাকে ক্ষমা করতে পারেননি। তার কারণ হলো ওই গোলের জন্য ম্যারাডোনা কখনো ক্ষমা চাননি। এমনকি মা’রা যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পরও ম্যারাডোনাকে ক্ষমা করেননি পিটার শিলটন। পিটার শিলটন ডেইলি মেইলে লিখেছেন, আমার জীবনটা দীর্ঘদিন ধরে দিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আমার পছন্দ মতো নয়। এত অল্প বয়সে তার মৃত্যুর খবর শুনে আমি দুঃখ পেয়েছি। নিঃসন্দেহে তিনিই সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কথা স্মরণ করে শিলটন বলেছিলেন, কী ঘটেছিল? এমনটা আমরা কেউই প্রত্যাশা করিনি। আমরা কিভাবে পারব? তিনি আমাকে চ্যালেঞ্জ জানালেন, কিন্তু তিনি জানতেন যে মাথায় পারবেন না। তাই তিনি এটিকে (বলকে) ঘুষি মা’রলেন। এটি একটি স্পষ্ট অ’পরা’ধ, প্রতারণা। কে কী বলবে তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। তিনি কখনো ক্ষমা চাননি- এটি আমি পছন্দ করিনি। কোনো পর্যায়ে কখনো তিনি বলেননি যে তিনি প্রতা’রণা করেছেন এবং তিনি দুঃখিত বলতে চান। পরিবর্তে তিনি ‘হ্যান্ড অব গড’ লাইনটি ব্যবহার করেছিলেন। এটি ঠিক ছিল না। সূত্র: ইয়াহু নিউজ।