নারীদের অধিকার আদায়ের সমাবেশে দাঁড়িয়ে নারীদের জন্ত-জানোয়াড় বললেন নেতানিয়াহু

November 28, 2020 12:40 pm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সমাবেশটা ছিল নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিবাদে আওয়াজ তোলার। নারীদের অধিকারের দাবিতে সরব হওয়ার। সেই সমাবেশে দাঁড়িয়েই নারীদের জন্তু-জানোয়ারের সঙ্গে তুলনা করে বসলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবার নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিবাদ সমাবেশে ওই বিতর্কিত বক্তব্য দেন তিনি।

এ নিয়ে দেশটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৫ নভেম্বর) ছিল ‘নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসা দূরীকরণ’ (ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন) বিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস। সেই উপলক্ষেই ইসরায়েলের আইনসভা নেসেটে বক্তব্য রাখেন নেতানিয়াহু।

স্ত্রী সারা এবং নারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ”নারীরা আপনার আমার সম্পদ নয়। কোনো পশু নয় যে তাদের ওপর অত্যাচার করা যাবে। নারীরা কোনো জানোয়ার নয় যে, তাকে আপনি পেটাতে পারেন। ইদানীং আমরা বলে থাকি, জানোয়ারদেরও আঘাত করো না। আমরা জানি যে, পশুদেরও বোধবুদ্ধি, চেতনা, অনুভূতি রয়েছে। সুতরাং পশুদের প্রতি যদি আমাদের সমবেদনা থাকে-সব নারীই পশু, সব শিশুও পশু, তবে তাদের প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে।”

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য নিয়ে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে জন্তু-জানোয়ারের সঙ্গে কীভাবে নারীদের তুলনা করলেন, সেই প্রশ্ন তুলে নেতানিয়াহুকে তুলোধোনাও করছেন অনেকে। বিতর্ক বাড়তেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘নারী সুরক্ষা ও নারীদের অধিকার নিয়ে মন খুলে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসার প্রতিবাদেও সরব হয়েছেন। তার বক্তৃতার একটা ছোট অংশে হেনস্থার উদাহরণ দিতে গিয়ে পশুর প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই জন্তু-জানোয়ারের সঙ্গে নারীদের তুলনা করেননি।’

সম্প্রতি ইসরায়েলে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা অনেকটাই বেড়েছে। করোনাভাইরাসকালে লকডাউনের সময়ে পারিবারিক সহিংসতা বিশেষ করে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেদেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর মার্চের পর থেকে পারিবারিক সহিংসতা সংক্রান্ত অভিযোগ তিনগুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সাফাইয়ের পরেও নেতানিয়াহুর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক থামছে না।