পূর্বাচলের বঞ্চিত আদি বাসিন্দাদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ ও সকল জটিলতা নিরসনসহ সাত দফা দাবিতে মানব বন্ধন

November 29, 2020 7:26 pm

এ আরইব্রাহীম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহরের বঞ্চিত আদিবাসিন্দাদের মধ্যে প্লট বরাদ্দ ও প্লট প্রাপ্তদের সকল জটিলতা নিরসনসহ সাত দফা দাবিতে মানব বন্ধন করা হয়েছে।

আজ ২৯ নভেম্বর (রবিবার) গোবিন্দপুর-দাউদপুর সড়কের কালনী এলাকায় পূর্বাচল অধিবাসী অধিকার সংরক্ষণ কমিটি এ মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানব বন্ধন পুর্বক কালনী বাজার মাঠে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট আজাহারুল ইসলাম। আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবি মানতে হবে অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন কমিটির কর্মকর্তা সৈয়দ মারফত আলী, ইব্রাহীম ভুঁইয়া, আওয়ামীলীগ নেতা দ্বীন মোহাম্মদ দিলু, আফজাল হোসেন, মীর অলি উল্লাহ, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ইমন হাসান খোকন, যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম, মোহন মিয়া, প্লট বঞ্চিত সুবাস চন্দ্র দাস, সোয়েবুর রহমান, আব্দুল হালিম, রমজান আলী, লালমিয়া, শিরিনা আক্তার, মুকুল ভুইয়া, ছোবাহান, জালাল উদ্দিন, খুরশিদা আক্তার প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, পূর্বাচলের আদি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে বসত বাড়ি ও ফসলি জমি নিয়ে পূর্বাচল নতুন শহর নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ আদি বাসিন্দাদের অনেকের মধ্যে এখনো প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অনেকেই প্লট পায়নি। রাজউকের তৎকালীন নিয়মানুযায়ী ঘর-বাড়ি, জমির মালিক আদি বাসিন্দা স্বামী ও স্ত্রীর নামে পৃথক পৃথক প্লট বরাদ্দ দেয়া হলেও এখন তা বাস্তবায়ন করতে রাজউক গড়িমসি করছে। পুর্বাচলের আদি বাসিন্দাদের স্বামী প্লট পেলে স্ত্রী পাবেনা কিংবা স্ত্রী প্লট পেলে স্বামী পাবে না এমন মনগড়া আইন চলতে দেয়া হবেনা। কোন অযুহাতেই আদি বাসিন্দাদের মধ্যে বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল করা চলবেনা। আদি বাসিদের প্লট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে। মামলার কারণে যেসকল আদি বাসিন্দা প্লট প্রাপ্তির আবেদন করতে পারেননি, তাদের আবেদনের সুযোগ দিতে হবে। পূর্বাচলের ভূমিহীন আদি বাসিন্দাদের পূণর্বাসন করতে হবে।ম্যানেজম্যান্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) নামে প্লট প্রাপ্ত আদি বাসিন্দাদের হয়রানি করা চলবে না। অবিলম্বে পূর্বাচলের আদি বাসিন্দাদের সকল দাবি মেনে নেয়ার জন্য তারা আহ্বান জানান।

পরে পূর্বাচল অধিবাসী অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি এডভোকেট আজহারুল ইসলাম আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী আগামী ৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন, ৬ ডিসেম্বর ঢাকাস্থ রাজউকের অফিস ঘেরাও এবং ৭ ডিসেম্বর সকাল থেকে ঢাকা বাইপাস সড়ক ও পূর্বাচলের ৩শ’ ফুট সড়কের কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় অবরোধ করা হবে। এরপরও আদি বাসিন্দাদের দাবি না মানলে আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।