মোশরেকরা অবান্তর কথা বলে মানুষকে বিপদগামী, পথভ্রষ্ট করে

November 30, 2020 7:38 pm

নিউজ ডেক্সঃ

বিপদগামী কাফের মোশরেকরা মহান প্রভু সম্পর্কে অবান্তর কথা বলে মানুষকে বিপদগামী, পথভ্রষ্ট করে। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ

অর্থ্যাৎ : এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (সূরা : লোকমান ; আয়াত ৬)

মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে ফেরানোর জন্য মহান রাব্বুল ইজ্জত যুগে যুগে অসংখ্য মহামানব জগতে প্রেরণ করেছেন। যখনই কোন মহামানব জাতিকে সিরাতুল মুস্তাকিমের রাস্তায় আহবান করেছেন তখনই বিপদগামীরা মহান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর প্রেরিত রাসূলদেরকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছে। তারা দুনিয়ার মোহে আকৃষ্ট হয়ে মহান মালিকের বিধি বিধানের বিরোধীতা করে, মহান মালিককে অস্বীকার করে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার চক্রান্তে লিপ্ত থাকে।

বিপদগামী কাফেররা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ নির্দেশ নিয়ে খেল তামাশা ও ঠাট্টা বিদ্রুপ করে এবং মহান সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে বিপদগামী হতে উৎসাহিত করে। মহান আল্লাহ তায়া’লা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِؤُونَ

অর্থ্যাৎ : “আর যদি তুমি তাদেরকে প্রশ্ন কর, অবশ্যই তারা বলবে, ‘আমরা আলাপচারিতা ও খেল-তামাশা করছিলাম। বল, ‘আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলের সাথে তোমরা বিদ্রূপ করছিলে ?” –(সূরা আত-তাওবা, আয়াত : ৬৫)

বিপদগামী কাফেররা মহান মালিকের আদেশ নির্দেশ সমুহকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, ঠা্ট্টা বিদ্রুপ করে নিজে এবং তার সঙ্গীদের পাপ সাগরে নিমজ্জিত করে রাখে। এদের বিষয়ে হুঁশিয়ারি প্রদান করে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,

لاَ تَعْتَذِرُواْ قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ إِن نَّعْفُ عَن طَآئِفَةٍ مِّنكُمْ نُعَذِّبْ طَآئِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُواْ مُجْرِمِينَ

অর্থ্যাৎ : ছলনা কর না, তোমরা যে কাফের হয়ে গেছ ঈমান প্রকাশ করার পর। তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দেইও, তবে অবশ্য কিছু লোককে আযাবও দেব। কারণ, তারা ছিল গোনাহগার। (সূরা : আত-তওবা ; আয়াত ৬৬)

কাফের, মোশরেক ও বিতাড়িত শয়তানের ধোকায় পড়ে ঈমান আনার পরও মানুষ বিপদগামী হয়ে যায়। তাদের কর্মের কারনে কতককে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন কতককে আযাবও দেন। মহান মালিকের সাথে নাফরমানির কারনে এরা মোনাফেক হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন,

الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ بَعْضُهُم مِّن بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمُنكَرِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوفِ وَيَقْبِضُونَ أَيْدِيَهُمْ نَسُواْ اللّهَ فَنَسِيَهُمْ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

অর্থ্যাৎ : মুনাফেক নর-নারী সবারই গতিবিধি একরকম; শিখায় মন্দ কথা, ভাল কথা থেকে বারণ করে এবং নিজ মুঠো বন্ধ রাখে। আল্লাহকে ভুলে গেছে তারা, কাজেই তিনিও তাদের ভূলে গেছেন, নিঃসন্দেহে মুনাফেকরাই নাফরমান।সূরা : আত-তওবা ; আয়াত ৬৭)

শয়তানের প্ররোচনায় ও দুনিয়াবি লোভ লালসায় মহান আল্লাহতায়ালা ও তাঁর প্রেরিত মহামানব রাসূলগনের আদেশ নির্দেশ সমুহকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করার কারনে মানুষ মোনাফেক হয়ে যায়। মোনফেক নারী এবং মোনাফেক পুরুষ উভয়ের চরিত্রই একই রকম। মানুষকে পাপ কাজে ধাবিত করে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, আল্লাহতায়ালাকে ভুলিয়ে দেয়। মহান রবকে ভুলে বিপদগামী কাফেরদের অনুসরন করার কারনে মহামহিম পরওয়ারদেগার এদেরকে কঠোর শাস্তির উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন,

وَعَدَ الله الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا هِيَ حَسْبُهُمْ وَلَعَنَهُمُ اللّهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ

অর্থ্যাৎ : আল্লাহ ওয়াদা করেছেন , মুনাফেক পুরুষ ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের জন্যে দোযখের আগুনের-তাতে পড়ে থাকবে সর্বদা। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।( সূরা : তওবা ; আয়াত ৬৮)

মহান মালিকের নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে শয়তানের অনুসারী বিপদগামী কাফেরদের প্ররোচনা ও ধোকাবাজি থেকে হেফাজত করে তাঁর একত্ববাদের প্রতি ও তাঁর রাসূল (স:) এর উপর পরিপূর্ণ ভালবাসা বিশ্বাস স্থাপন করে মু’মিন হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন।আমিন।