নভেম্বরে ১০৬টি জাহাজের আগমন ৭০ বছরের রেকর্ড সৃষ্টি

December 1, 2020 10:11 pm

শেখ রাসেল, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি

মোংলা বন্দরের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। তবে এবার করোনা পরিস্থিতিতির কারণে স্বল্প পরিসরে উদযাপন করা হয়েছে বন্দরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

আজ ১ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল বন্দরের প্রশাসনিক ভবন চত্বর পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচীর শুভ সূচনা করেন বন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান। এ সময় তিনি বন্দরের কর্মরত-কর্মচারী ও সকল ব্যবসায়ীদেরকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সংক্ষিক্ত বক্তব্য রাখেন। এরপর বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ বের হওয়া বণার্ঢ্য রালী বন্দর এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পর বন্দরের সম্মেলন কক্ষ অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলন মোংলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্তি ছিলেন।

এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বন্দরের বর্তমান চলমান ও ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, পদ্মা সেতু, রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেদ্র, মোংলা-খুলনা রেল লাইন ও খান জাহান আলী বিমান বন্দরের কার্যক্রম দৃশ্যমান হওয়ার পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বদ্ধিত ব্যাপক কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বদ্ধির জন্য ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তিনটি প্রকল্প (ভবিষ্যৎ প্রকল্প) অনুমাদন প্রক্রিয়াধীন আর বিবচনাধীন (ভবিষ্যৎ প্রকল্প) রয়েছে ১৩টি প্রকল্প। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিষণ ২০২১ বাস্তবায়ন মোংলা বন্দর এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এর প্রমাণ হলো গত নভেম্বর মাস মোংলা বন্দর ১০৬টি জাহাজের আগমন ঘটছে। যা ৭০ বছরর ইতিহাস রের্কড সৃষ্টি করেছে। এর আগ অক্টোবর ৭০টি এবং সেপ্টেম্বর ৮৩টি জাহাজ এ বন্দরে ভিড়ে। বিগত বছরগুলোতে যেখানে মোট ৭০/৮০টি জাহাজ আসতো, এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিমাসেই তার চয়েও বশি জাহাজ আসছে। এটা সম্ভব হয়েছে বন্দরের ক্রমাগত উনয়নের জন্যই। বন্দরের সার্বক্ষনিক সেবাদানে ও বিদ্যমান সুযাগ-সুবিধার কারণে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব্যবহার আগ্রহী হয়েছেন। আগামীতে এ বন্দর ৩ হাজার জাহাজ, ৩০ হাজার গাড়ী, ৮ লাখ টিইউজ কটইনার ও ৪ কাটি মট্টিক টন কামার্ত হ্যান্ডলিং করার সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি সহ বদরর সার্বিক অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিকায়নের জন্য প্রয়াজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকশল ও উনয়ন) ইয়াসমিন আফসানা, সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন মাহাম্মদ আলী চৌধুরী, পরিচালক (প্রশাসন) গিয়াস উদ্দিন, হারবার মাষ্টার কমান্ডার শেখ ফখরুল উদ্দিন, প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দীকুর রহমান, পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ মোস্তফা কামাল, ট্রাফিক ম্যানেজার মোঃ সাহাগ, দৈনিক সুন্দরবন সম্পাদক সেখ হেমায়েত হাসান, সাংবাদিক নেতা এম এ মাতালেব, মোঃ নূর আলম শেখ, আহসান হাবীব, আমির হাসান আমু, আবু হাসাইন সুমন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সভাপতি সাইজউদ্দিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফিরোজসহ অন্যান্যরা উপস্তি ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ১লা ডিসেম্বর চালনা বন্দর দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৯৫৪ সালের ২০ জুন চালনা থেকে সরিয়ে মোংলায় স্থানান্তর করা হয়। ভৌগলিক দিক দিয়ে তৎকালীন চালনা বন্দর ছিল খুলনা জেলায় আর বর্তমান মোংলা বন্দর বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।