ঢাকা সেনানিবাস সংলগ্ন মাটিকাটা বাজারের ৬তলা ভবনে ফাটল

December 3, 2020 10:01 am

মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন মাটিকাটা বাজারের ৬তলা ভবনের পিলারে ফাটল, ভয় এবং আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া বসবাসকারী ভাড়াটিয়া।

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন মাটিকাটা বাজার মেইন সড়ক সংলগ্ন ৭৪ নম্বর বাড়ির ভবনের একটি পিলারের আনুমানিক সময় সকাল ৯ ঘটিকায় হঠাৎ ফাটল দেখা দিলে উক্ত ভবনে বসবাসকারী ভাড়াটিয়াগণ ভয়ে এবং আতঙ্কে বাসা থেকে বের হয়ে যান। ঘটনাস্থলে দৈনিক ঢাকা হেডলাইন্স পত্রিকার প্রতিনিধি সরজমিনে উপস্থিত হয়ে স্হানীয় জনসাধারণ এবং বাড়ির কেয়ারটেকার রফিক মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন যে, বাড়ির মালিক পক্ষ উক্ত ৬তলা ভবনের নিচে মৎস মার্কেট এবং মনোহরী দোকান বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে নিচ তলায় সংস্কার কাজ শুরু করেন।

এ প্রেক্ষিতে, পিলারের সাথের ইটের ওয়ালগুলো ভাঙ্গার কাজ শুরু করেন। ওয়াল ভাঙ্গার এক পর্যায়ে হঠাৎ করে ভবনের নিচতলার বাম পাশের একটি পিলারের উপরের অংশে শব্দ করে ফেটে যায়। উক্ত সময়ে ভবনের আশে পাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনে বসবাসকারী ভাড়াটিয়াগণ প্রাণভয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

উক্ত ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস এবং স্হানীয় ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ উপস্থিত হয়ে সাময়িক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ভবনটির নিচ এলাকায় ডেন্জার জোন ঘোষণা করে লাল ফিতা দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছেন।

রাত আনুমানিক ৮ ঘটিকায় রাজউক এর একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এবং স্হানীয় ক্যান্টনমেন্ট থানার কর্তব্যরত এসআই গোলাম মোস্তফাসহ ভবনের নিচতলার খোলা অংশের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং ভবনের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। উক্ত পরিদর্শন সময়ে দৈনিক ঢাকা হেডলাইন্স পত্রিকার প্রতিনিধি তাদের সাথে ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে রাজউক কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধি দলের জনৈক কর্মকর্তা পিছন থেকে বলেন যে, “”ভিতরে কোন সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবে না””। তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করলে এবং এই কথাকে বলেছে জানতে চাইলে, উক্ত প্রতিনিধি দলের সবাই নিশ্চুপ থাকেন এবং কোন প্রকার উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকেন। কর্তব্যরত পুলিশ এবং রাজউক কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধি দল স্হানীয় সাংবাদিককে তাদের সাথে ভিতরে প্রবেশ করা হতে বিরত রাখতে বাধ্য করেন।

এছাড়াও উল্লেখ্য যে, স্হানীয় জনসাধারণ এবং ভবন মালিকের ছেলে জনাব জামিল এর সাথে আলাপ করে জানা যায় যে, উক্ত ভবনটি ১৯৮৬ সালে রাজউক হতে ৪র্থ তলা ভবন নির্মাণ এর জন্য নকশা অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করলেও তা শেষ করেন ১৯৯৪ সালে। পরবর্তীতে আরও ২ তলা অর্থাৎ ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত বর্ধিত করার জন্য রাজউক এ আবেদন করতঃ ২০০৩ সালে ৫ম এবং ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত বর্ধিত ২ তলার কাজ সম্পন্ন করেন।

৫ম এবং ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত অতিরিক্ত অংশ বর্ধিত করার জন্য রাজউক হতে অনুমোদন পেয়েছেন বা অনুমোদন দিয়েছে তার নথিপত্র আছে কিনা তা জিজ্ঞেস করলে ভবন মালিকের ছেলে জনাব জামিল জানান যে, বর্ধিত তলার অনুমোদনের কোন নথিপত্র তাদের কাছে রক্ষিত নেই এবং তা হারিয়ে গেছে বলে জানানো হয়। উক্ত অনুমোদনের নথিপত্র হারিয়ে গেছে, এ প্রেক্ষিতে ভবন মালিক পক্ষ স্হানীয় ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি জিডি লিপিবদ্ধ করেন। তার একটি কপি দৈনিক ঢাকা হেডলাইন্স পত্রিকার প্রতিনিধিকে সরবরাহ করেন যা কিছুটা অস্পষ্ট এবং জিডি লিপিবদ্ধ করার তারিখ উল্লেখ নেই।

২ ইউনিট বিশিষ্ট ৬তলা ভবনে বর্তমানে বসবাসকারী প্রায় ৭/৮টি পরিবার উক্ত ভবনে তাদের রেখে আসা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভবনে আটকে থাকায় তারা রয়েছেন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়।

ভাড়াটিয়ারা জানান যে, ভবনে আটকে থাকা দামী জিনিসপত্রের ব্যাপারে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাসা থেকে তাদের দামী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করতে পারবেন কি পারবেন না, এ ব্যাপারে ভবন মালিক পক্ষ থেকে কোন প্রকার সদুত্তর পাচ্ছেনা। এ ব্যাপারে ভবন মালিকের ছেলে জনাব জামিলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে, তিনি এ ব্যাপারে রাজিউক এবং স্হানীয় ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেও কোন প্রকার সিদ্ধান্ত পাননি। তবে ভাড়াটিয়াগন জানান যে, তারা তাদের ভাড়া বাসায় আটকে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং দামী জিনিসপত্রগুলো ঠিকমতো পাবেন কিনা বা কোন ভাবে চুরি হয়ে যায় কিনা, এ ব্যাপারেও তারা উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন।