ভালো নেই কুটির শিল্প শ্রমীক মিনারা বেগম॥ পচঁন ধরেছে বাঁ-পায়ে ॥

December 3, 2020 11:05 pm

এ আর ইব্রাহিম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

মানুষ মানুষের জন্য-জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভুতি কি-মানুষ পেতে পারে না…… শিল্পির আবেদন ময়ী এ গানের চরণ স্বরণ করলেই মনে হয় ৩৫ বছর বয়সী মিনারার কথা। অন্য সাধারণ দশ জন মানুষের মতই মায়ের কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় সে। পার হয় শিশুকাল। আর পারিবারিক অভাব-অনটননের কারণে বিদ্যালয়ের চৌকাঠ পারাতে পারেনি সে। দারিদ্রতার গেড়াকলে কৈশোর ও যৌবন কালকে ধাবিয়ে রাখে পারিবারিক দায়বদ্ধতা। শুরু হয় সংগ্রামী জীবন আর কাধে দায়িত্ব তুলে নেয় পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটাবার। আজ মধ্য বয়সে অর্থাভাবে থমকে আছে পরিবারের দায়িত্ব নেয়া সেই মিনারা বেগমের জীবন। চিরাচারিত ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পচন ধরেছে বাঁ-পায়ে। কেটে ফেলা হয়েছে বাঁ-পায়ের একটি আঙ্গুল। আর অর্থাভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ায় দিনে দিনে বাড়ছে পায়ের পচঁন। সংকটাপন্ন মুহুর্তে মিনারা বেগমের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন স্বামী আমির আলী।

স্বামী আ মির আলী বলেন, গত ছয় মাস আগে স্ত্রী মিনারা বেগমের শরীরে ডায়াবেটিস ধরা পরে। এক মাস আগে হঠাৎ বাঁ-পায়ে পচন ধরে। পরে রাজধানীর বারডেম হসপিটালে অপারেশন করে বাঁ-পায়ের একটি আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়। তাতেও কমছে না পায়ের পচঁন। এখন পায়ের পচঁন থেকে বাচঁতে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু দিন মুজুর স্বামী হিসেবে স্ত্রীর চিকিৎসার টাকা যোগান দিতে পারছেন না তিনি। আর অল্প সময়ের মধ্যে স্ত্রীর চিকিৎসা করতে না পারলে পায়ের পচঁন বেড়ে হয়তো বাঁ-পা বিকল হতে পারে।
মিনারা বেগমের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসতে সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্বামী আমির আলী। মিনারা বেগমের সাথে যোগাযোগের ও বিকাশ নম্বর ০১৭৫৯-৩২৬৭৫৮।

মিনারা বেগম উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ব্রাক্ষনগাঁও এলাকার মৃত.হাবিবুর রহমানের একমাত্র কন্যা। মা-বাবা হারানো পরিবারে এক ভাই ইউসুফ। সেও পৃথীবি থেকে বিদায় নিয়েছে আরো বছর কয়েক আগে। স্বজন হারা মিনারা বেগম কুটির শিল্পে জামদানি শাড়ী বুনার কাজেই ব্যয় করেছেন জীবনের এতটা সময়। তার স্বামী আমির আলী পেশায় একজন দিন মুজুর। পরিবারে কোন সন্তানাদি না থাকলেও সুখেই কাটছিল তাদের সাংসারিক জীবন। কিন্তু হঠাৎ পেয়ে বসা ডায়াবেটিস রোগের কারণে তাদের জীবনে নেমে এসেছে তিমির অন্ধকার। প্রতিটি দিনই যেন এখন আতঙ্ক আর অসহ্য বেদনা দায়ক।