ফ্রিল্যান্সারদের প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

December 24, 2020 9:28 am

নিউজ ডেক্সঃ

সেবা রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী ফ্রিল্যান্সারদের প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বৈদেশিক মুদ্রায় আয় বাড়াতে অনলাইনে কাজে নিয়োজিত যুবকদের পৃষ্ঠপোষকতা করতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।

তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে ৬ লাখ ৫০ হাজার নিবন্ধনকৃত ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। তারা বছরে ১৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করছেন।

মূলত তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত এই ফ্রিল্যান্সাররা তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত প্রোগ্রামিং, ডিজাইনিং, ট্যাক্স পুর্ব প্রস্তুতি, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনসহ (এসইও) বিভিন্ন ধরনের কাজ করছেন।

বর্তমানে সরকার রপ্তানি আয়ে উৎসাহ দিতে ৩৮টি খাতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা দিচ্ছে। অপর দিকে সরকার বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য ২শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে।

বিদেশি মুদ্রায় অধিক পরিমাণ অর্থ উপার্জনকারী ফ্রিল্যান্সাররা দীর্ঘদিন ধরে তাদের রফতানি আয়ের বিপরীতে নগদ প্রণোদনা দাবি করে আসছেন।

এদিকে পরিষেবা রপ্তানি থেকে ফ্রিল্যান্সারদের উপার্জনের বিপরীতে নগদ প্রণোদনা প্রদান সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন জমা দিতে মনিটরিং সেলের মহাপরিচালক হাকিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

কমিটিতে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিভাগ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশে বিভিন্ন ধরনের সেবা রপ্তানির মাধ্যমে বেশ ভালো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন।

আমরা যদি তাদের আয়ের বিপরীতে প্রণোদনা দিতে পারি তাহলে আরও বেশি শিক্ষিত তরুণ এই পেশায় যুক্ত হতে আগ্রহী হবেন।

তখন আমাদের বেকার জনগোষ্ঠীর পরিমাণ কমে যাবে এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে।

তরুণ ফ্রিল্যান্সার ফরহাদুল ইসলাম শুভ বলেন, অনেক শিক্ষার্থী তাদের পড়ালেখার খরচসহ আর্থিক প্রয়োজন মেটাচ্ছেন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করা অর্থ দিয়ে।

পড়াশোনা শেষ করার পরেও অনেকে চাকরি যোগাড় করতে ব্যর্থ হয়, এমনকি বছরের পর বছর ব্যয় করার পরেও অনেকে হতাশায় ভুগছেন। ফ্রিল্যান্সিং কাজ হাজার হাজার বেকার যুবককে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করছে।

শুভ আরও বলেন, ফ্রিল্যান্সাররা যে সেবা রপ্তানি করছে সেটি একটি পণ্য। নগদ সহায়তা প্রদান করা হলে এ খাতে অনেক যুবকের এগিয়ে আসতে সহায়তার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে যুক্ত হবে।