নিখোঁজের ১৫ বছর পর ঘরে ফিরলো মেয়ে

July 25, 2016 5:40 pm

স্থানীয় প্রতিনিধিঃ

হারিয়ে যাওয়ার ১৫ বছর পর নিজ বাড়িতে ফিরলেন শিখা আক্তার। সোমবার শিখাকে বাড়িতে নিয়ে যান তার মা রহিমা খাতুন।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর মিলন ঘটে হারিয়ে যাওয়া মা-মেয়ের। ওই দিন মেয়েকে দেখেই বাড়ি ফিরে যান মা। এরপর সোমবার খুলনায় এসে মেয়েকে নিয়ে যান তিনি।

মা-মেয়ের মিলন ঘটানোর পেছনের কারিগর বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. মোমিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, ‘এক সাংবাদিক আড়াই মাস আগে তার কাছে একজন লোককে পাঠান। তার কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হারিয়ে যাওয়া একটি মেয়ে মিয়াপাড়ার একটি বাড়িতে ১৫ বছর ধরে কাজ করছে। এরপর তারা মেয়েটির ঠিকানা উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের ওই গ্রামের দুটি মসজিদে মাইকিং করেন। মাইকিং শুনে শিখার পরিবার সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করে।’

তিনি আরো জানান, ‘দু’পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলতে থাকার একপর্যায়ে খুলনায় আসেন শিখার মা রহিমা খাতুন, চাচা বেলাল এবং প্রতিবেশী মনজুরুল হক। এরপর খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা আবুল হোসেনের বাড়িতে গেলে মা-মেয়ের মিলন ঘটে।’

অ্যাডভোকেট মোমিনুল আরো জানান, ‘প্রথম দিন মা ও আত্মীয়রা শিখাকে দেখেই কিশোরগঞ্জে ফিরে যান। কারণ শিখা তাদের সঙ্গে ফিরতে চাননি। এরপর মা-মেয়ের মধ্যে কথা হলে শিখা বাড়ি থেকে ঘুরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে দুই পরিবারের ইচ্ছাতেই শিখা বাড়ি ফিরে যায়। সেখানে শিখার যদি ভালো না লাগে, তাহলে সে খুলনায় ফিরে আসবে—এমন কথার ভিত্তিতেই তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়।’

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার উত্তর পুমদী গ্রামের গিয়াস উদ্দিন ও রহিমা খাতুন দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান শিখা। আট বছর বয়সে তুলি নামের স্থানীয় এক নারী কাজ দেওয়ার নাম করে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে কয়েক হাত ঘুরে শিখা আসে খুলনায়। প্রথমে নগরীর জোড়াকল বাজারের একটি বাড়িতে কাজ করত সে। এরপর প্রায় ১৫ বছর ধরে নগরীর নিউ মিয়াপাড়া রোডের আবুল মিয়ার বাড়িতে ছিল।

ঢাকা থেকে নিখোঁজের পরই শিখার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বাড়ির লোকজনও জানত শিখা হারিয়ে গেছে। শিখার বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। বেঁচে থাকতে ঢাকার মিরপুর থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন তিনি।

শিখা বলেন, ‘অনেক আনন্দ লাগছে। আল্লাহর কাছে সব সময় মা-বাবার জন্য দোয়া করেছি। কিন্তু একটাই দুঃখ, বাবাকে আর কোনোদিন দেখতে পাব না।’

Please follow and like us:

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*