করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই উন্মুক্ত হছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

January 14, 2021 10:40 am

নিউজ ডেক্সঃ

করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ফের উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা জাগাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এরই মধ্যে শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে একটি প্রস্তাব পাঠানোর কথা উল্লেখ করে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি মাসেই আসতে পারে সুখবর। এদিকে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলে মাত্র ছয় মাসেই কমপক্ষে চার লাখ শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হবে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি, আধুনিক জীবনযাত্রা, ভালো উপার্জন আর সাংস্কৃতিক মিল থাকায় নিরিবিলি বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর মালয়েশিয়ায় যান অসংখ্য কর্মী। বর্তমানে দেশটিতে রয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি।

সরকারি হিসাবে, সবশেষ ২০১৮ সালে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার। কিন্তু ওই বছরই সেপ্টেম্বরে দেশটির নতুন সরকার কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় এবং গত বছরজুড়ে করোনাভাইরাসের কারণে সেখানে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা ছিল নামমাত্র। আবার দেশে ছুটি কাটাতে এসে সেখানে কর্মরত প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশি করোনার কারণে আটকে রয়েছেন। এসব কর্মী এখন দিন গুনছেন ফিরে যাওয়ার।

শহিদুল ইসলাম নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী বলেন, ৯৫ শতাংশ মালয়েশিয়ান প্রবাসীর ভিসা শেষ হয়ে গেছে। আমরা সরকারিভাবে সেগুলো অটোভাবে রিনিউউ করতে হবে।

চাহিদা থাকায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হলে সরকারের বেঁধে দেওয়া খরচে কর্মী পাঠানোর কথা জানান এ খাতের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা।

বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, যারা বর্তমানে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন তাদের বৈধ করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে করোনার কারণে যারা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

তবে, এবারের সুযোগ কাজে লাগাতে সিন্ডিকেটের ব্যাপারে সচেতন থাকার পরামর্শ তাদের।

ইস্টার্ট বে বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বাবুল বলেন, ওরা (মালয়েশিয়া) ২৫ অথবা ৩০ লাইসেন্সটা দিয়ে লোকবল নেবে। শ্রমিকরা ১৬০ হাজার টাকার মধ্যে সেখানে যেতে পারবে। দেশটির কৃষি ও নির্মাণ খাতে প্রায় ৬ লাখ লোক পাঠানো যাবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতি সচল করতেই মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে কর্মী নেওয়ার ইঙ্গিতের কথা জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ, তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরা সেটা দিয়ে স্টাডি করছি। জানুয়ারিতে এই নিয়ে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব। এ ছাড়া শিগগির বসবে দ্বিপাক্ষিক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক।

কর্মী পাঠানোর সুযোগ মিললে শ্রমিক স্বার্থকে বড় করে দেখার কথা জোর দিয়ে জানালেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী।