আখাউড়া স্থলবন্দরে দিয়ে শুরু হচ্ছে আমদানি, ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা

February 18, 2021 10:37 am

নিউজ ডেক্সঃ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে রফতানির পর এবার আমদানির দ্বারও পুরোপুরি খুলে গেছে। সব ধরনের পণ্য আসবে এই বন্দর দিয়ে। এই ঘোষণায় স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এই বন্দরটি দিয়ে আমদানির পথ সুগম হওয়ায় ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত আখাউড়া স্থলবন্দরটি চাঙা হয়ে উঠবে। বাড়বে সরকারের রাজস্ব আদায়ের হার।

ব্যবসায়ীরা জানান, চালু হওয়ার প্রায় ২৭ বছর পর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানির দ্বার উন্মোচন হলো। দীর্ঘদিন ধরে এই স্থলবন্দরটি দিয়ে শুঁটকি, হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, সয়াবিন, প্লাস্টিক পণ্য, কয়লাসহ প্রায় ৪২টি পণ্য রফতানি হয়ে আসছিল। আর নামে মাত্র আমদানি হতো বোল্ডপাথর, সিএনজি অটোপার্টস, ফুলের ঝাড়ু, সাতকরা, তরল রাবারসহ কয়েকটি পণ্য। তবে চাহিদা না থাকায় এসব পণ্য আমদানিতে আগ্রহ ছিল না বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের। এরই মধ্যে ভারতের ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় শতভাগ রফতানিমুখি বন্দরটি অনেকটাই ঝিমিয়ে পরে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মাধ্যমে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের কাছে খবর আসে, নিষিদ্ধ ঘোষিত পণ্য ছাড়া এই স্থলবন্দর দিয়ে সব রকমের পণ্য আমদানির অনুমোদন হয়েছে। এই খবরে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। শিগগিরই এই ঘোষণা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে স্থলবন্দরটি প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে বলে মনে করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আব্বাস ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের ২৭ বছরের স্বপ্ন আমাদের মন্ত্রী (স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক) পূরণ করেছেন। খবরটি আমাদের আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল গত ৯ ফেব্রুয়ারি আইনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্থলবন্দরে জানান। এরপর থেকে ব্যবসায়ীদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দরে মিষ্টি মুখ করিয়ে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।’

বন্দরের অপর ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, এই বন্দর দিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত পণ্য ছাড়া সব পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ায় বন্দরটি চাঙা হয়ে উঠবে। কর্মসংস্থান হবে অনেকের।
সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতিত সব পণ্য আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আখাউড়া স্থলবন্দরটি এতদিন শতভাগ রফতানিমুখী স্থলবন্দর ছিল। আমদানি কার্যক্রম শুরু হলে বন্দরে কর্মসংস্থান বাড়বে। প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। এই ঘোষণা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঝিমিয়ে থাকা বন্দরটি এখন বেনাপোলের মতো চাঙা হয়ে উঠবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।’

এদিকে বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত পণ্য ছাড়া সব পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ায় বন্দরে রাজস্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে আমদানি শূন্যের পর্যায়ে ছিল। এই ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে আমদানি বাড়বে। ব্যবসায়ী ও সরকার উভয়ই লাভবান হবে। বন্দরটি আরও গতিশীল হবে।

স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে পোর্ট অব কল হিসেবে আখাউড়া স্থলবন্দরটির নাম ঘোষণা করা হয়। এর পর ২০১০ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এর পর থেকে প্রায় শতভাগ রফতানি হতো এই স্থলবন্দর দিয়ে।