প্রতিবেশীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ঢাবি শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা

February 21, 2021 7:51 pm

আলমগীর হোসেন, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আনন্দ মিয়া (২১)। জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ৭ নং ইউনিয়নের মধ্যেরচর গ্রামে তার পৈতৃক নিবাস। তবে সে নিবাসে আতঙ্ক বিরাজ করে সবসময়।আর সে আতঙ্ক সৃষ্টির মূলে কাজ করছে তার আরেক প্রতিবেশী।

বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আনন্দ মিয়ার বড় চাচা সংসারে হাল ধরেন।আর ছোট চাচা ঢাকা, সাভারের টাঙ্গাইল ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন। তাদের বাড়ির প্রতিবেশী জাফর মিয়া এলাকায় খারাপ লোক হিসেবে পরিচিত। আনন্দ মিয়ার পরিবারের উত্তরোত্তর উন্নতিতে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে জাফর সবসময় তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করতো। জাফর মিয়া কয়েক মাস আগে মারা যাবার পর তার ছেলে মজিবর (৩৬) ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। জমিজমাসহ অন্যান্য ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে তারা আনন্দ মিয়ার পরিবারের সাথে ঝগড়া বাঁধাতো। কিন্তু আনন্দ মিয়ার বড় চাচা হযরত আলী(৫৩) সরল মানুষ হওয়ায় ঝগড়া বিবাদ এড়িয়ে চলার চেষ্টাই করতেন। বিভিন্ন সময়ে মজিবর এবং তার দলবলের এসব জুলম-নির্যাতনের জন্য গ্রামে লোকজন নিয়ে সালিশি হলেও বরাবরই মজিবর ও তার দলবলেরা এসব সালিশির সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।

গত ১১ তারিখ সামান্য একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে আনন্দ মিয়ার বড় চাচিকে মারধর করে মজিবর ও তার স্ত্রী। চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনে আনন্দ মিয়ার ছোট চাচা এগিয়ে আসলে মজিবরের পরিবারের সবাই মিলে তাকেও মারধর করে। মারধরের সময় আনন্দ মিয়ার বড় চাচা মজিবরের দলকে আটকাতে গেলে ওনিও এই হামলার শিকার হন।

এক পর্যায়ে আনন্দ মিয়ার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গিয়ে আনন্দের ছোট চাচা, বড় চাচি এবং বড় চাচাকে উদ্ধার করে। পরিস্থিতি শান্ত হলে আনন্দ মিয়ার ছোট চাচা বাজারে চলে যান। আর এই সুযোগে বিকেলে পুনরায় মজিবর, তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা, উজানের শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এবং মজিবরের বংশের লোকেরা সহ বিশাল দলবল নিয়ে মজিবরের বাহিনী আনন্দ মিয়ার বাড়িতে হামলা করে। এ হামলায় জড়িত ছিল ঠান্ডু মিয়া,মোস্তফা, জয়নাল মিয়া, আব্দুল আজিজ, লিয়াকত আলী, কুসু, রাসেল মিয়া, সাথী বেগম, হৃদয়, শান্তা, মীম, মিথিলা,সাব্বির মিয়া প্রমুখ। তারা এই সময় আনন্দ মিয়ার বড় চাচা-চাচি, চাচাতো ভাই, গর্ভবতী চাচাতো বোন, বৃদ্ধ দাদিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারধর করে। তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুতই ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়তে থাকে। খবর পেয়ে বাজার থেকে ছুটে আসা আনন্দ মিয়ার ছোট চাচাকে মজিবরের বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ার সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, প্রাণে মারার হুমকি দেন এবং ভবিষ্যতে যাতে চাকরি করতে না পারে তার জন্য মিথ্যা মামলা করারও হুমকি দেন। এসব ঘটনার বর্ণনাগুলো দিয়েছেন মোঃ আনন্দ মিয়া।

আনন্দ মিয়া আরো জানায়,গত ১৭ তারিখ তাঁর পরিবারের নামে মজিবরের বাহিনী কোর্টে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। মামলার আসামী দেওয়া হয় আনন্দ মিয়ার দুই চাচা,চাচাতো ভাই ও তার সহোদর ছোট ভাইকে( যে কিনা ঘটনার কিছুই জানে না। ওয়াক্তের নামাজে মসজিদে উপস্থিত ছিল)। সে আরো যোগ করে বলে, তাদের উপর হামলার জন্যে মামলা করতে চেয়েছিল তাঁর পরিবার। কিন্তু গ্রামের মাতাব্বরা আশ্বাস দিয়েছিলেন যে সমস্যাটা মীমাংসা করে দেওয়ার। তবে মজিবর গ্রামের লোকদের কথা না মেনে উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করে বসে।

গ্রামের সাধারণ মানুষ জানায়,মজিবর ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে মানুষের উপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। আনন্দ মিয়া ও তার পরিবারের উপর এরূপ অত্যাচার সত্যিই বেদনাদায়ক। তারা সবাই মজিবরের আচরণে ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করেছেন।

আনন্দ মিয়ার বড় চাচা হযরত আলী বলেন, তিনি চান যে মীমাংসার মাধ্যমে মজিবরের সাথে সমস্যা সমাধান করতে।কিন্তু এখন কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।