বাউফলে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর অনশন

February 25, 2021 12:18 am

মোঃ আশিকুর রহমান তুষার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করায় স্ত্রী রাহানি জান্নাত টুলুকে (৩১) দুই সন্তানসহ ঘর থেকে বের দেন স্বামী সাইফুল ইসলাম। বর্তমানে ওই গৃহবধূ তার সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ওই বাড়িতে তালাবন্ধ ঘরের সামনে জারিন তাসনিম (৮) ও উমামা তাইবা (৭) নামের দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন স্ত্রী রাহানি জান্নাত টুলু।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে দুই শিশু স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়, দীর্ঘ কয়েক মাস পর্যন্ত বাবা আমাদের কোনো খোঁজখবর নেন না। আমরা ফোন করলে বাবা রিসিভ করেন না। ফোনে মেসেজ লিখে পাঠালে বাবা বলেন- তার ডিস্টার্ব হয়।

সন্তানদের সঙ্গে মা টুলু কেঁদে বললেন, আমি আমার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাব না। স্বামীর সঙ্গে এ বাড়িতেই থাকতে চাই। আপনাদের মাধ্যমে আমি আমার স্বামীকে পেতে চাই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ বছর আগে বাউফল ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামের ছাত্তার মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলামের (৪০) সঙ্গে একই উপজেলার বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের রাজ্জাক মাস্টারের মেয়ে রাহানি জান্নাত টুলুর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই সন্তান হয়।

গত ৫ মাস আগে স্ত্রী টুলুর বাবা রাজ্জাক মাস্টার মারা যান। এরপর স্বামী সাইফুল ইসলাম স্ত্রীকে ভাইদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য বলেন। টাকা না দেয়ায় টুলুর ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি।

তিন মাস আগে স্ত্রীকে আর নির্যাতন করা হবে না মর্মে আদালতে অঙ্গীকারনামা দিয়ে বাড়ি আসেন সাইফুল। এরপর তিনি ঢাকায় যান কিন্তু এখন পর্যন্ত স্ত্রী আর সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না সাইফুল।

উপায় না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে বুধবার স্বামীর বাড়িতে যান টুলু। তাকে দেখে শ্বশুর ও শাশুড়ি ঘর তালাবন্ধ করে গা-ঢাকা দেন।

রাহানি জান্নাত বলেন, ঘরে প্রবেশ না করা পর্যন্ত আমি অনশন কর্মসূচি পালন করে যাব।

তবে সাইফুল সাংবাদিকদের জানান, আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে না নেয়া পর্যন্ত আমি তাকে নিয়ে সংসার করব না।

এ ব্যাপারে বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হবে।