১ মার্চ-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সকল প্রকার মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা

March 1, 2021 1:18 pm

নিউজ ডেক্সঃ

ইলিশসহ সকল প্রকার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার দেশের ৬টি অভয়াশ্রমে প্রতিবছরের মতো এ বছরও ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২ মাস সকল প্রকার মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

এসব অভয়াশ্রম হলো-পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদের ৪০ কিলোমিটার, চরইলিশার মদনপুর থেকে ভোলার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের ৭০ কিলোমিটার, লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৩০ কিলোমিটার ও শরীয়তপুরের নড়িয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত নিম্ন পদ্মার ২০ কিলোমিটার এলাকা।

বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর নদের হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জের বামনীরচর পয়েন্ট পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার, মেহেন্দীগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার, হিজলার মেঘনার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দীগঞ্জসংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার। এই সীমানার মধ্যের নদ-নদীগুলো হচ্ছে কালাবদর, আড়িয়ালখাঁ, নয়ভাঙ্গুলী, গজারিয়া ও কীর্তনখোলা। অর্থাৎ বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জসংলগ্ন মেঘনার শাখা নদীগুলোর আওতায় রয়েছে।

এসময় মাছ শিকার থেকে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা মাছ শিকার করবে তাদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করা হবে বিশেষ অভিযান।

অক্টোবরের প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়ার পর বর্তমান সময়টি ইলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। এসময় ইলিশ জাটকা থেকে বেড়ে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। ইলিশের বেড়ে ওঠার পাশাপাশি অন্যান্য মাছ এসময় নদীতে ডিম ছাড়ে বিধায় এসব অভয়াশ্রমে ১ মার্চ থেকে ইলিশসহ সকল মাছ শিকার বন্ধ থাকবে। জেলেদেরকে এসময় মাছ শিকার থেকে বিরত রাখতে মৎস্য বিভাগ চালিয়ে যাচ্ছে বিশেষ প্রচার-প্রচারণা। জেলেরাও মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে প্রস্তুত। তবে তাদের দাবি প্রতি বছরই তারা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে কিন্তু প্রভাবশালীরা অবৈধ জাল দিয়ে ইলিশসহ অন্যান্য মাছগুলো নষ্ট করে ফেলে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেদিকে গুরুত্ব দেয় না। জেলেদের অভিযোগ তাদের জন্য প্রণোদনা হিসেবে জনপ্রতি ৪০ কেজি করে ৪ মাসের জন্য যে চাল বরাদ্দ করা হয় তাও তারা সময় মতো পান না।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম. আজাহারুল ইসলাম জানিয়েছে, আইন অমান্যকারী জেলেদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকৃত জেলেরা সঠিক সময়ে নির্ধারিত পরিমাণে যাতে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল পেতে পারে সেজন্য এবছর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই চাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

১ লাখ ৩৯ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। নিবন্ধনের বাইরেও রয়েছে আরও অন্তত ২ লাখ। জাটকা রক্ষা কর্মসূচির আওতায় ৭৮ হাজার জেলেকে ৪ মাস ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।