প্রিন্স হামজা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত-জর্ডানের উপ-প্রধানমন্ত্রী

April 5, 2021 10:17 am

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ

জর্ডানের সাবেক যুবরাজ প্রিন্স হামজা বিন হুসেইন এক ভিডিও বার্তায় তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে জানানোর পর দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী আয়মান সাফাদি দাবি করেছেন, প্রিন্স হামজা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

প্রিন্স হামজার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে এক সংবাদ সম্মেলনে জর্ডানের উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রিন্স হামজা ‘বিদেশি শক্তির’ সঙ্গে মিলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

প্রিন্স হামজা জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সৎ ভাই।

প-প্রধানমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেন, প্রিন্স হামজা সরকারের বিরুদ্ধে উপজাতীয় নেতাদের একাট্টা করার চেষ্টা করছিলেন। এ ব্যাপারে অনেক দিন ধরেই তদন্ত চলছিল এবং ব্যাপারটি আদালতে তোলা হবে বলেও সাফাদি জানান।

এর আগে প্রিন্স হামজার মা যুক্তরাষ্ট্র বংশোদ্ভুত রানি নূর এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘অসৎ অপপ্রচারের শিকার সবাই ন্যায়বিচার পাবে এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে’—তিনি সে প্রার্থনাই করছেন।

উপ-প্রধানমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেন, প্রিন্স হামজার স্ত্রী প্রিন্সেস বাসমাকে প্লেনে করে জর্ডানের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্যএকটি বিদেশি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আয়মান সাফাদি সংস্থাটির নাম বলেননি। তিনি জানান, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে প্রিন্স হামজাকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাতে নেতিবাচক সাড়া দেন।

তবে, এখনও প্রিন্স হামজার সঙ্গে ‘আলোচনা চলছে’ বলে আয়মান সাফাদি জানান।

প্রিন্স হামজাকে গৃহবন্দি করার পাশাপাশি মোট ১৬ জনকে গত শনিবার আটক করা হয়, যাঁদের মধ্যে বাদশাহ আবদুল্লাহর একজন উপদেষ্টাসহ রাজপরিবারের একজন সদস্য রয়েছেন।

উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক করাকে এক ‘কথিত অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত’ বলা হচ্ছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রিন্স হামজা কয়েকজন আদিবাসী নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যাদের কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি সমর্থন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রিন্স হামজা অবশ্য কোনো রকম অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ ছিলেন না।

প্রিন্স হামজা তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে বিবিসির কাছে পাঠানো এক ভিডিওতে তাঁর দেশের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও হয়রানির অভিযোগ আনেন।