১০০০ বেডের হাসপাতালের পরিকল্পনা নিয়ে ডিএনসিসি’র আইসোলেশন সেন্টার

April 6, 2021 6:14 pm

স্টাফ রিপোর্টারঃ

দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বাড়ছে প্রতিদিনই। সংক্রমণ শনাক্তের সঙ্গে রাজধানীতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়। দেশের অন্যান্য স্থানেও বাড়ছে হাসপাতালে বেড না পাওয়ার হাহাকার। এ অবস্থায় দেশে শুরু হতে যাচ্ছে ন্যূনতম এক হাজার বেডের হাসপাতালের পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আইসোলেশন সেন্টার।

কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে, আইসিইউ, এইচডিইউ সহ হাসপাতালের সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এই হাসপাতালটি আগামী সপ্তাহ থেকেই চালু হবে। প্রাথমিকভাবে ২০টি আইসিইউ বেডসহ ২৫০ শয্যার সেবা কার্যক্রম দিয়ে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ হাসপাতালটি চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ডিএনসিসি মার্কেটে আইসোলেশন সেন্টার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সেটি পরবর্তীতে আর চালু করা হয়নি। দেশে সংক্রমণ কমে আসতে থাকলে এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বৃদ্ধির পরে দেশে ২২ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনে ডিএনসিসি করোনা আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে ডিএনসিসি আইসোলেশন সেন্টারটিকে খুব দ্রুত হাসপাতালে রূপান্তরিত করার জন্য দৈনিক তিন শিফটে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) সাবেক এই পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ করে যাওয়ার। এ জন্যে তিন শিফটে বর্তমানে দিন রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করা হচ্ছে। এটা অনেক বড় একটা প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা মত হয়, তবে অবশ্যই এটি একটি উদাহরণ হয়ে থাকার মতো কাজ হবে। আমরা ১২ তারিখ বা ১৩ এপ্রিলের দিকে এটা সীমিত আকারে শুরু করবো। প্রাথমিকভাবে ২৫০ শয্যা দিয়ে আমরা শুরু করবো এটা। এই সময়ে অন্তত ২০টি আইসিইউ সহ এটি শুরু করার পরিকল্পনা আছে। এর সঙ্গে আমরা ভাবছি পরবর্তী প্রতি সপ্তাহে একেকটা ফ্লোর বাড়াতে থাকবো চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, আশা করছি এই মাসের শেষ দিকে অন্তত পুরোটাই যাতে সচল করে ফেলতে পারি। আগামী সপ্তাহে শুরু করার পরের সপ্তাহেই হয়তোবা ৫০ শতাংশ কাজ আমরা শেষ করে ফেলতে পারবো। আমাদের জেনারেল ওয়ার্ডগুলো অনেকাংশেই প্রায় প্রস্তুত। কিছু লজিসটিকসের জন্য আমরা আরেকটু সময় নিচ্ছি। শয্যা ও রোগীর থাকার ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই করা হয়েছে। কারণ আপনারা জানেন আগেই এটি এক হাজার শয্যার আইসোলেশন সেন্টার হওয়ার কথা ছিল। এখন যেহেতু হাসপাতাল বিশেষ করে কোভিড চিকিৎসার জন্য পুরো সিস্টেমটাকেই গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ন্যূনতম এক হাজার বেডের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এটির সংখ্যা এর চাইতে আরও বাড়বে, কমার সম্ভাবনা নেই। সে বিষয়ে এখনই আগাম কিছু বলতে চাইছি না। এখানে আমরা অন্তত ১০০ আইসিইউ বেড যুক্ত করবো চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য। ১২২ টির মতো এইচডিইউ শয্যার এখানে যুক্ত হতে যাচ্ছে। এটা আসলে সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন হাসপাতাল হতে যাচ্ছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে এ মাসের মাঝামাঝি ২৫০ শয্যা ও শেষ নাগাদ প্রায় এক হাজার বেড চালু করার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে হাসপাতাল প্রশাসন। এখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন কাজ করে যাচ্ছে। আমিও কিন্তু আর্মড ফোর্সের ডিভিশনের পক্ষেই এখানে কাজ করে যাচ্ছি। আর্মড ফোর্সের ডিভিশনের নিয়ন্ত্রণে ও তত্ত্বাবধানে এখানে কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে জনবল, আর্থিক সহায়তা, ওষুধ বিভিন্ন কিছু দিয়ে। আর্মড ফোর্সেস থেকেও আমরা চিকিৎসক, নার্স সহ আমাদের কিছু থাকছে। ডিএনসিসি তাদের জায়গা দিয়েছে ও একই সঙ্গে অন্যান্য কিছু সাপোর্ট দিয়ে আমাদের সাহায্য করে যাচ্ছে। মূলত এই তিনটা প্রতিষ্ঠান মিলেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এখানে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ফরিদ হোসেন মিঞা বলেন, মহাখালীতে ডিএনসিসির আইসোলেশন সেন্টারে ১ হাজার ৫০০ বেডের কোভিড ইউনিট তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি এটি চালু হলে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া আরও সহজ হবে।

ডিএনসিসি’র মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সবচাইতে বড় আইসিইউ সেবা শুরু হতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মহাখালীতে। আশা করছি ১২ এপ্রিল আমরা এখানে ২৫০ শয্যা দিয়ে এটি চালু করতে পারবো। তার ঠিক ১৫ দিন পরেই ধাপে ধাপে আরও বেড বাড়ানো হবে।