মামলা না নেয়ায় নেত্রকোণায় ওসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

April 17, 2021 4:58 pm

ফারিয়া সেতু, নেত্রকোণা প্রতিনিধি

নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া থানার ওসি জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রিয়া আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী নারী।

অভিযোগে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ রাতে নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া তেলিগাতী বাজারের গো-হাটার পশ্চিমে নিজ জমিতে নির্মিত দু’টি দোকান ঘরের তালা ভাংচুরের পর দখলের চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে দোকান ঘরে তালা ঝুলিয়ে চাবি ভুক্তভুগীকে না দিয়ে তেলিগাতী বাজারের ইজারাদার আবুবকরের কাছে জমা রাখে। পরবর্তিতে অভিযোক্ত মতিন সাষ্টার গংরা ইজারাদারের কাছ থেকে চাবি নিয়ে বে আইনিভাবে দোকানে প্রবেশ করে। আটপাড়া থানায় বারবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আমাদের কোন অভিযোগ গ্রহণ করেননি। তাই আইনের সুবিচার পাওয়ার জন্যোই আটপাড়া থানার ওসির বিরোদ্বে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডি আই জি স্যারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।

অভিযোগকারি রিয়া আক্তার আরও জানায়, ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে আমার বাবা মৃতঃ আব্দুল কাদের একই এলাকার মৃত নবাব হোসেনের ছেলেদের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ ভুমি সাফ (কাউলা) দলিল করেন। এর পর থেকেই আমরা এই জায়াতেই বসবাস করে আসছি। বাবা ও মা মৃত্যুর পর আমাদের কোন ভাই না থাকায় আমরা তিনবোন উত্তরাধিকার সুত্রে এই সম্পত্তির মালিক হই। স্থানিয় তহসিলদার সঠিক কাগজপত্র দেখেই আমাদের নামে নামজারি করে দিয়েছেন, আমরা যথারিতি জায়গার খাজনাও প্রতিবছর দিয়ে আসছি। বিগত ২৮ বছর ধরে আমাদের জায়গা আমরা ভোগ দখল করে আসছি। আমাদের জায়গার পাশে রামশিদ্ব গ্রামের মতি মাষ্টার গংদের জায়গা থাকায় আমরা মেয়ে মানুষ হওয়ায় আমাদেরকে অত্যাচার করে জায়গা দখল করার চেষ্টা করছে।

জায়গার সামনের অংশে দোকান তৈরী করার সময় আমাদেরকে বলেনি এটা আমাদের জায়গা। ঘর তৈরী করতেই ভারাটিয়া গোন্ডানিয়ে আমাদেরকে হুমকি শুরু করে জায়গা ছেরে দিতে। আমরা তিন বোন এখন প্রাণ নাসের আতঙ্কে আছি। মতিন মাষ্টারের ভাই মিলন মিয়া সেনাবাহীনিতে চাকরী করেন, সে এলাকায় এসে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সহায়তায় আমাদের উপড় অত্যাচার শুরু করে। আমরা তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

বাজারের ইজারাদার আবুবকরের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন ফোনে সব কথা বলা যাবে না সামনা সামনি কথা বলব। এর পর থেকে তার সাথে আর কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দোকানদার জাহাঙাগীর আলম, শাসনকান্দি গ্রামের আবুল কালাম ও তেলিগাতী বাজারের রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা জানি এই সম্পত্তি রিয়াগংদের। এখন কি ভাবে মতিন মাষ্টার রা এই সম্পত্তির মালিক হল আমরা বুঝতে পারছি না। আসলে মেয়ে গুলিকে অত্যাচার করা হচ্ছে, ভারাটিয় গুন্ডাদিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে জায়গা ছেড়ে চলে যেতে।

এ বিষয়ে বিবাদী মতিন মাষ্টারের ভাই মিলন মিয়া সেনা সদস্যের সাথে কখা বল্লে তিনি বলেন, এই জায়গাটি ক্রয়সুত্রে আমরাই এ মালিক। আমরার বাবা রিয়ার বাবাবে এখানে থাকতে দিয়েছিল । আমি জমির কাগজপত্র সম্পর্কে এতকিছু বুঝিনা, আমার ভাগ্নেকে পাওয়ার অব এটর্নি করে দিয়েছি জায়গাটি।

মতিন মাষ্টারের ভাগ্নে মোঃ ফজলুমিয়া জানান, আমার নানা ১৯৮২ সনে তাঁরামিয়া ও হালান মিয়ার কাছ থেকে এই জমি নগদ মূল্যে ক্রয় করেন। ৮৩ সনে আমার নানার নামে বি,আর এস হয়েছে। সেই সুত্রে এই সম্পত্তির ওয়ারিশান আমরা। নেত্রকোণা আদালতে মামলা করেছি, আদালত যে সিদ্বান্ত দেয় আমরা মেনে নিব।

তেলিগাতী ইউনিয় পরিষদের চেয়াম্যান জাগাঙ্গীর আলম জানান, জায়গার কোন সমস্যা হয়েছে কি না তা আমি জানি না। আমাকে কোন পক্ষই জানায়নি।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেয়নি । অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘর নিয়ে যে সমস্যার শৃস্টি হয়েয়ে তা আমি জানি। আমাকে রিয়ারা প্রায় সময় ফোনে অভিযোগ দিত। আমি পুলিশ পাঠিয়ে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কখনো থানায় এসে আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ করেনি।