ভোগ বিলাস নয়, স্বপ্ন ভিক্ষাবৃত্তির জন্য একটি হুইলচেয়ার!

April 18, 2021 10:40 am

এস এম রাফি, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফারাজি পাড়া গ্রামের দিনমজুর পরিবারের মৃত কাশেম আলীর ছেলে প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলাম।

একটি পলিথিন পেতে তার উপর বসে একটি ছাতা হাতে ভিক্ষার আশায় দিন কাটে বৃদ্ধ ভিক্ষুকের। ১৯৮৮ সাল থেকে একই জায়গায় ভিক্ষা করে ৩৩ বছর পার করে দিয়েছেন।

৩৩ বছরের স্বপ্ন যদি কারো কাছে একটা হুইল চেয়ার পেতাম তাহলে আশ-পাশের বাজার গুলোতে ভিক্ষা করতে পারতাম।
তিনি আরো বলেন,” ভিক্ষা করতে আজ-কাল আর ভালো লাগে না। কারো সহযোগিতা পেলে ছোট্ট কোন মুদি দোকান অথবা অটোরিক্সা চালাতাম।

অসহায় প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায় ছোট বেলায় তাঁর ভীষন জ্বর হয়। সেইসময় তার বামপাশের এক পা ও একহাত অবশ হয়ে যায় । এরপর স্থানীয়ভাবে কবিরাজী চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও কর্মক্ষম হয়ে পরেন তিনি।

এরপর থেকে শুরু হয় জীবনের কঠিন সময় কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী মহাসড়কের চন্ডিপুর বাজার সংলগ্ন স্থানে বসে ভিক্ষা বৃত্তি শুরু করেন সেই কিশোর বয়স থেকেই। একটানা ৩৩ বছর ধরে একই স্থানে বসে ভিক্ষা করার কারণে তার বসার স্থানটির নাম করন হয় ফকীরের তকোয়া নামে।

ফকিরের তকোয়ার স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, “রফিকুল দীর্ঘদিন ধরে এই একটি স্থানে বসে ভিক্ষা বৃত্তি করছেন। সে বাড়ি থেকে যাওয়া আসার জন্য প্রতিদিন রিক্সায় ৪০ টাকা খরচ লাগে অথচ সারাদিনে যা পান সংসারে চলেনা। তাকে যদি কেউ একটি হুইল চেয়ার দিয়ে সহযোগিতা করতো তাহলে রফিকুল বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়েও ভিক্ষাবৃত্তি করতে পারতো।

স্থানীয় অনেকের কথায় আরো জানা যায়, কোন কাজ-কর্ম করতে না পারায় ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি বেছে নেন ভিক্ষা বৃত্তি। সেই থেকে তিনি এখনো একই স্থানে বসে চালিয়ে যাচ্ছেন তার জীবন সংগ্রাম তথা ভিক্ষা বৃত্তি। তার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও মানসিক ভারসাম্যহীন একটি মেয়ে।

খোলা আকাশের নীচে বসে ভিক্ষাবৃত্তি করার সময় ঝড়-বৃষ্টি আসলে সেদিন আর তার ভিক্ষাবৃত্তি হয় না। অনাহারে কাটাতে হয় সেই দিন।

প্রতিদিন গড়ে ১০০-১৫০ আয় করেন। যা দিয়ে চলে ৪জনের সংসারের ভরণ পোষণ। প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলাম সমাজ সেবার আওতায় প্রতি ৩ মাস পরপর পান প্রতিবন্ধী ভাতা। তবে সে ভাতাও গত একবছর ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে ভাতা বন্ধ কেন এর কারণ বলতে পারেন না রফিকুল।

রফিকুল ইসলাম তার ৩৩ বছরের ভিক্ষাবৃত্তি জীবন থেকে ফিরে একজন মুদি দোকানদার অথবা অটোরিক্সা চালক হতে চান সেটুকু আশাও যদি পুরন না হয় অন্তগ একটি হুইল চেয়ারের আকুতি জানান প্রতিবন্ধী এই ভিক্ষুক।

ভিক্ষাবৃত্তির জন্য একটি হুইলচেয়ার(তিন চাকার গাড়ি) এর স্বপ্নও কি পুরন হবেনা রফিকুলের?