ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে শুনানির ৩৩ হাজার ৮৫০ কারাবন্দি জামিন

May 10, 2021 9:28 pm

নিউজ ডেক্সঃ

মহামারীর কারণে সরকার ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউন’র মধ্যে সীমিত পরিসরে চলা দেশের অধস্তন আদালত থেকে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৮৫০ কারাবন্দি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর গত ১২ এপ্রিল থেকে রোববার পর্যন্ত মোট ১৯ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে শুনানি করে এসব বন্দিদের জামিন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন বলবৎ রাখতে এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় করোনাভাইরাসের এই অতিমারির মধ্যেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, চেম্বার আদালত ও হাই কোর্ট বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুরূপভাবে অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতেও ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন ও জরুরি বিষয়ের শুনানি এবং নিষ্পত্তি হচ্ছে।

“শুধু তাই না, প্রধান বিচারপতির আদেশে গত ২৭ এপ্রিল দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোর আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি (ফটো-সার্টিফাইড কপি)অতি স্বল্প সময়ে মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। ফলে মামলার পক্ষগণ খুব সহজেই তা সংগ্রহ করে উচ্চতর আদালতে দাখিল করতে পারছেন।”

এ কর্মকর্তার জানান, রোববার পর্যন্ত ১৯ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল শুনানি করে সারাদেশে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ৬৩ হাজার ১০৯টি মামলায় জামিন আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

এসব আবেদনে মোট ৩৩ হাজার ৮৫০ কারাবন্দি ব্যক্তি জামিনে কারাগার মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি শিশু আদালত থেকে ৪৭০ শিশুর জামিন হয়েছে।

সাইফুর রহমান জানান, গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চে ১০ হাজার ৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই চরম দুঃসময়ে বিচারক, আইনজীবী এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনবাজী রেখে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন। অধস্তন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে অতিমারি মোকাবেলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দ্বার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।”

তিনি জানান, করোনাভাইরাসের এই মহামারীকালে আদালতে বিচারকাজ পরিচালনা ও দায়িত্ব পালন করে উচ্চ আদালতের বিচারপতি, অধস্তন আদালতের বিচারক এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৯১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৭৮ জন। আর বিচারকসহ ৭ জন কর্মচারী মারা গেছেন। বাকিরা চিকিৎসাধীন।