‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট

June 8, 2021 10:23 am

নিউজ ডেক্সঃ

দীর্ঘদিন ধরে মন্দ ঋণ ও লোকসানের ভারে নিমজ্জিত শেয়ারবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। বেশ কয়েক বছর কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিচ্ছেন না। ফলে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে কোম্পানিটি।

ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এখন লোকসানি কোম্পানি। মূলত আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কোম্পানিটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে কোম্পানিটিকে রক্ষা করে আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো জরুরি বলে মনে করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

নয়তো খাতে আরও একটি বড় রকমের কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবার আশঙ্কার রয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এ বিষয়টি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অবহিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০০১ সালে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৩ সালে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এরপর থেকে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা ভালোই ছিল। তবে ২০১৭ সাল থেকে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিচ্ছেন না। ফলে কোম্পানিটি ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে, যা এখনও বহাল রয়েছে। এরপর থেকে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এ পরিস্থিতির জন্য কোম্পানিটির সাবেক উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ব্যর্থতা দায়ী বলে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে বেরিয়ে এসেছে, মূলত ২০১৭ সাল থেকেই কোম্পানিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান, কয়েকজন পরিচালক ও কিছু কর্মকর্তার চরম আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির মুখ্য ভূমিকা দৃশ্যমান। যার ফলে কোম্পানিটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একসময়ের মুনাফাধারী কোম্পানিটি বর্তমানে শেয়ারবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরি হিসেবে চিহ্নিত। অনতিবিলম্বে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে, আর্থিক খাতে আরও একটি বড় রকমের কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হতে পারে বলে মনে করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এদিকে, বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। সাবেক সিনিয়র সচিব ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল মকবুলের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। একইসঙ্গে কোম্পানিটির আর্থিক বিবরণী বিশেষ নিরীক্ষা করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তবে বিএসইসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেছে কোম্পানিটির সাবেক পর্ষদ। এ পরিস্থিতিতে পর্ষদ পুনর্গঠন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটির অফিসসহ দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে অনুরোধ জানিয়েছে বিএসইসি। তবে এখন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিএসইসিকে আমরা একটি চিঠি দিয়েছি। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার জন্য কিছু সুপারিশ করা হয়েছে।’
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি আমরা হাতে পেয়েছি। কমিশন সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

প্রসঙ্গত, ১৬৪ কোটি ৬ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ১১৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঋণাত্মক রিজার্ভ রয়েছে। কোম্পানির মোট ১৬ কোটি ৪০ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩০টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৪১.৮৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১১.৫৫ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৬.৫৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সোমবার (৭ জুন) কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ৩.৮০ টাকায় লেনদেন হয়েছে।