আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন না বিএনপির দুই নেতা

June 9, 2021 8:46 pm

নিউজ ডেক্সঃ

নৌকার মনোনয়ন ফরম কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে ঢাকাই সিনেমার খল অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে। সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুতে তার আসন ঢাকা-১৪ ফাঁকা হওয়ায় আসনটির উপনির্বাচন দেয়া হয়। আর এ উপনির্বাচনে নৌকার হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করতে চেয়েছিলেন ডিপজল।

জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে নৌকার মনোনয়ন ফরম তুলতে যান বিএনপির সাবেক দুই নেতা।

একটার দিকে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে আসেন এখলাস উদ্দিন মোল্লাহ। দুপুরের বিরতিতে ফরম বিক্রি বন্ধ থাকায় প্রায় পোনে দুই ঘন্টা অপেক্ষা শেষে ফরম বিক্রির কক্ষে যান এখলাস। কিন্তু ঘটে বিপত্তি। মনোনয়ন ফরম কেনার কোন শর্ত পূরণ করতে না পারায় এখলাসের কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রিতে অসম্মতি জানান দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

একদিকে এখলাসের পক্ষ থেকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করে অনুরোধ করতে থাকেন তার সমর্থকেরা। অপরদিকে ফরম কেনার যোগ্যতার পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে। এভাবে চলতে থাকে মিনিট দশেক। শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়ে কার্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন এখলাস উদ্দিন মোল্লাহ ও তার সমর্থকেরা। তবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরও হাল ছাড়েননি বিএনপির সাবেক এমপি এখলাস।

এখলাসের এ ঘটনার সময় কক্ষের বাইরে অবস্থান করছিলেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল্। এক সময়ের বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত এ খল অভিনেতা পরিস্থিতি টের পেয়ে ফরম কেনার আশা ত্যাগ করেন। সঙ্গে আসা চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীদের নিয়ে তিনিও দ্রুত আওয়ামীলীগ কার্যালয় ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, ডিপজল ও এখলাস উদ্দিন মোল্লাহ দু’জনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সিনেমায় খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিএনপির সমর্থন নিয়ে তিনি ১৯৯৪ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার (কাউন্সিলর) পদে নির্বাচন করে জিতেছিলেন। বিএনপির রাজনীতি করে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে।

এখলাস উদ্দিন মোল্লাহ ছিলেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক নেতা। তিনি ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে তার ভাই ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার ঢাকা-১৬ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে এবং কোনো ধরনের লোকসমাগম ছাড়া প্রার্থী নিজে অথবা প্রার্থীর একজন যোগ্য প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীকে অবশ্যই প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে। আগামী ১০ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ শূন্য আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ জুলাই। গত ২ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

ইসি সচিব জানান, এই তিন আসনের উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ জুন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৭ জুন, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ জুন, প্রতীক বরাদ্দ ২৪ জুন ও ভোটগ্রহণ ১৪ জুলাই।