কুমারী অবস্থায় অন্তসত্ত্বা, নবজাতকটিকে হত্যার পর মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা

June 11, 2021 8:40 pm

এসএম বাচ্চু, তালা:

কুমারী অবস্থায় অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়লে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। এমনকি গর্ভের সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিয়েও শুরু হয় রশি টানাটানি। শেষ-মেশ কিশোরীর স্বজনদের সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় জনৈকা মহিলা মেম্বর মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে ধাত্রী হিসেবেও তার তত্ত্বাবধায়নে গর্ভপাত ঘটানো হয় কিশোরীর।

সিদ্ধান্ত হয়,রাতেই নবজাতকটিকে হত্যার পর মাটি চাপা দেওয়া হবে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। হত্যার আগেই পাটকেলঘাটা থানার এস আই সবুজ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার তৈলকুপির গ্রামে। বর্তমানে নবজাতকটি তার নানীর তত্ত্বাবধায়নে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতলেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তবে নবজাতকটির পিতৃ পরিচয় নিয়ে উদ্ধারকারী পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ভিকটিম কুমারী মায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নবজাতকটির পিতা একই এলাকার শাহাবুদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে হযরত আলী বিশ্বাস(২২)।

এ ব্যাপারে স্থানীয়দের প্রশ্ন ঘটনার বিষয়ে পুলিশে কেন অভিযোগ করা হয়নি? শিশুটির পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত হলে কোথাও কোন মামলা বা অভিযোগ না করে কেনই বা তার অবৈধ গভৃপাত ও হত্যা শেষে মাটি চাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? তবে জড়িতদের সাথে কোন চুক্তি হয়েছিল কি? নাকি অন্তরালে রয়েছে অন্যকিছু? এমন অনেক বলা না বলা প্রশ্নবানের মধ্যে একটি প্রশ্ন বারবার ঘুর পাক খাচ্ছে। আর তা হল, আসলেই কি প্রতিবেশী হযরত ঘটনার জন্য দায়ী? নাকি মূল অপরাধীকে বাঁচাতে এটা কোন নয়া কৌশল?

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হযরত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,তাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি কোনভাবেই নবজাতকের পিতা নন। সর্বশেষ নবজাতকের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করতে শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষারও দাবি জানান।